বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বাংলা সিনেমার জগতে একসময় যাঁর নাম মানেই ছিল হিট ছবি, সেই রাজ চক্রবর্তী (Raj Chakraborty) এখন রাজনীতির ময়দানেও সমানভাবে পরিচিত মুখ। পরিচালকের চেয়ার ছেড়ে তিনি এখন ব্যারাকপুরের তৃণমূল বিধায়ক। সিনেমার সাফল্যের পর রাজনীতিতে তাঁর এই উত্থান কীভাবে হল, কেনই বা এই পরিবর্তন, এই নিয়েই এখন জোর আলোচনা চলছে।
টলিউড থেকে তৃণমূলের তারকা মুখ (Raj Chakraborty)
টলিউডের বাণিজ্যিক ছবির জগতে রাজ চক্রবর্তীর (Raj Chakraborty) নাম প্রথম সারিতেই রাখা হয়। তাঁর পরিচালিত ছবিগুলো শুধু বক্স অফিসে সফলই হয়নি, বরং বাংলা সিনেমার প্রচলিত ধারাকেও অনেকটাই বদলে দিয়েছিল। দর্শকদের পছন্দ, গল্প বলার ধরণ এবং উপস্থাপনার ক্ষেত্রে নতুনত্ব এনে তিনি খুব অল্প সময়েই নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন।
এই সাফল্যের পরই তিনি (Raj Chakraborty) ধীরে ধীরে ক্যামেরার বাইরে আরও বড় পরিসরে কাজ করার কথা ভাবতে শুরু করেন। সেখান থেকেই রাজনীতিতে প্রবেশ। তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক কাজকর্মে যুক্ত হন। এরপর ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়ে বিধায়ক হন।
২০২১ সালে যখন প্রথমবার রাজ (Raj Chakraborty) ভোটে দাঁড়ান, তখন তিনি ‘তারকা প্রার্থী’ হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন। কিন্তু এবার তাঁর ভাবনা আলাদা। রাজের মতে, সিনেমার পরিচয় এক জিনিস, আর রাজনীতিতে তাঁর একমাত্র পরিচয় তিনি ব্যারাকপুরের বিধায়ক। রাজনীতিতে তাঁর আসা একেবারেই হঠাৎ সিদ্ধান্ত ছিল না, আবার আগে থেকে পরিকল্পনাও ছিল না। ২০১৬ সাল থেকেই মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজের সূত্রে যোগাযোগ ছিল। তবে সেটা ছিল শুধু ক্যাম্পেনের কাজ।
ছোটবেলায় বাড়িতে কংগ্রেস আর মামার বাড়িতে বামপন্থার প্রভাব দেখেছেন তিনি। কলেজে কিছুটা রাজনীতি করলেও, সক্রিয়ভাবে কখনও যুক্ত হননি। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজ ও ব্যক্তিত্ব তাঁকে সবসময় টানত। ২০২১ সালের ভোটের আগে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। বিজেপি একের পর এক সেলিব্রিটিকে দলে নিচ্ছিল। তখন রাজ মনে করেন, শুধু বাইরে থেকে সমর্থন নয়, এবার সরাসরি মাঠে নামা দরকার।
রাজ (Raj Chakraborty) জানান এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পুরো রাত ঘুমোতে পারেননি তিনি। পরের দিন সকালে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেন। বলেন, তিনি দলে যোগ দিতে চান। মমতা প্রথমে বলেন, তিনি তো আগেই তাঁদের সঙ্গে আছেন। কিন্তু রাজ জানিয়ে দেন, তিনি এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিতে চান।
এরপর দ্রুত সবকিছু এগোয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন আসে। তাঁর অফিসে গিয়ে যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন অরূপ বিশ্বাসও।
ডানলপে মমতার সভায় গিয়ে রাজ এই নতুন পথের শুরু করেন। সঙ্গে ছিলেন সায়নী ঘোষ, কাঞ্চন মল্লিক এবং জুন মালিয়া। সেই সময় তিনি কাছের মানুষদেরও দলে যোগ দিতে উৎসাহ দেন। এরপর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আসে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বলেন, শুধু দলে যোগ নয়, ভোটেও লড়তে হবে। রাজও (Raj Chakraborty) চান কঠিন লড়াই। তাই তাঁকে ব্যারাকপুরে প্রার্থী করা হয়।

আরও পড়ুনঃ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই তৎপরতা, মোথাবাড়ি কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ নিল NIA
প্রথমবার ভোটে দাঁড়িয়েই বিজেপির চন্দ্রমণি শুক্লাকে হারিয়ে বড় ব্যবধানে জয় পান তিনি। সেই জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই এবার ফের ভোটের ময়দানে নামছেন। এবারে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির কৌস্তব বাগচী। তবে রাজ (Raj Chakraborty) জানিয়েছেন, তাঁর ফোকাস প্রতিপক্ষ নয়, নিজের কাজ। ২০২১ সালের মতো এবার তিনি ‘তারকা প্রার্থী’ নন, বরং একজন কাজ করা বিধায়ক হিসেবেই মানুষের কাছে যেতে চান।












