বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রেশন কার্ড (Ration Card) নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে বড়সড় যাচাই। এবার শুধু আয়করদাতাই নন, চারচাকা গাড়ির মালিক, জিএসটি নম্বর থাকা গ্রাহক, কোনও কোম্পানির ডিরেক্টর বা পিএম কিষাণ ক্রেডিট কার্ডে ৫ লক্ষ টাকা বা তার বেশি ঋণ নেওয়া ব্যক্তিদের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এমন ৬৬৯৪ জনের নামের তালিকা এসেছে। তাঁদের রেশন কার্ড নিয়ে এখন সমীক্ষা চলছে।
রেশন কার্ড (Ration Card) যাচাইয়ে নতুন নজর
খাদ্য দপ্তর সূত্রে খবর, রাজ্য থেকে পাঠানো তালিকার ভিত্তিতে পূর্ব মেদিনীপুরের ২৫টি ব্লক ও পাঁচটি পুরসভা এলাকায় বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা শুরু হয়েছে। তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে। সমীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে আয়করদাতাদের রেশন কার্ড (Ration Card) নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তখন আয়করদাতা ব্যক্তির পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্যদের রেশন কার্ডও নিষ্ক্রিয় করা হয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। কারণ, পরিবারের একজন আয়কর দিলেও অন্য সদস্যদের কার্ড কেন বন্ধ করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে সেই সিদ্ধান্তে বদল আনা হয়। পরিবারের অন্য সদস্যদের রেশন কার্ড ফের চালু করা হয়। শুধু আয়করদাতার কার্ডই বাতিল রাখা হয়। পূর্ব মেদিনীপুরে প্রথমে প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার রেশন কার্ড নিষ্ক্রিয় করা হলেও পরে সেই সংখ্যা কমে প্রায় ২৮ হাজারে দাঁড়ায়।
এবার নতুন তালিকায় রয়েছে চারচাকা গাড়ির মালিক, কোনও কোম্পানির ডিরেক্টর, জিএসটি রেজিস্ট্রেশন থাকা গ্রাহক এবং পিএম কিষাণ ক্রেডিট কার্ডে ৫ লক্ষ টাকা বা তার বেশি ঋণ নেওয়া ব্যক্তিদের নাম। তাঁদের রেশন কার্ড (Ration Card) সন্দেহজনক তালিকায় রেখে যাচাই করা হচ্ছে।
তবে এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। কারণ, কৃষকদের নিয়ে তৈরি ফার্মার্স প্রোডিউসার অর্গানাইজেশন (এফপিও) আইন অনুযায়ী একটি কোম্পানি হিসেবে ধরা হয়। সেই সংস্থাগুলির ডিরেক্টর পদে সাধারণ কৃষকরাই থাকেন। ফলে অনেক সাধারণ কৃষকের নামও এই তালিকায় চলে আসতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তমলুক পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান দীপেন্দ্রনারায়ণ রায় জানান, তিনি আয়কর দেন। কয়েকদিন আগে তিনি দেখেন তাঁর রেশন কার্ড (Ration Card) নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ দেশের অন্যতম দরিদ্র মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কত সম্পত্তি রয়েছে তাঁর? জানুন
জেলা খাদ্য দপ্তরের এক আধিকারিকের দাবি, ৬৬৯৪ জনের একটি তালিকা জেলায় এসেছে। সেই তালিকা ফুড সাপ্লাই ইন্সপেক্টরদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন এলাকাভিত্তিক সমীক্ষা চলছে। সেই সমীক্ষার রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে (Ration Card)।













