চরম আর্থিক সঙ্কটে কেটেছে দিন! অথচ আজ ৫০,০০০ কোটির সাম্রাজ্য, চমকে দেবে রেণুকার কাহিনি

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: গত কয়েক বছরে ভারতে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে, আর সেই তালিকায় ক্রমেই শক্ত অবস্থান তৈরি করছেন মহিলা উদ্যোক্তারা। সেই সাফল্যের (Success Story) উজ্জ্বল উদাহরণ ৭১ বছর বয়সি রেণুকা জগতিয়ানি। ফোর্বসের রিয়েল টাইম বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, তিনি ভারতের শীর্ষ ১০ ধনী মহিলার তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। বর্তমানে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫.৭ বিলিয়ন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫০,২৩৮ কোটি টাকা। গত ২০২৪ সাল থেকেই তাঁর সম্পদে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি হয়েছে, যা তাঁকে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী ধনী নারীর তালিকায় আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

রেণুকার অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

রেণুকা জগতিয়ানি দুবাই-ভিত্তিক বহুজাতিক সংস্থা ল্যান্ডমার্ক গ্রুপের চেয়ারপারসন। মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ভারতীয় উপমহাদেশ মিলিয়ে বর্তমানে ২৪টি দেশে এই গ্রুপের ব্যবসা বিস্তৃত। ল্যান্ডমার্ক গ্রুপের অধীনে রয়েছে ২,২০০টিরও বেশি রিটেল স্টোর। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালে ভারতে যাত্রা শুরু করে এই সংস্থা, যা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৯০০-রও বেশি স্টোর পরিচালনা করছে। পাশাপাশি, গ্রুপের আতিথেয়তা ও হোটেল ব্যবসাও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: টোল ট্যাক্সে আর নয় নগদ লেনদেন! এই দিন থেকে শুরু হচ্ছে ক্যাশলেশ টোলিং, বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

আজকের এই বিপুল সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে সংগ্রাম আর কঠোর পরিশ্রমের দীর্ঘ ইতিহাস। রেণুকা জগতিয়ানির প্রয়াত স্বামী মিকি জগতিয়ানি একসময় লন্ডনের রাস্তায় ট্যাক্সি চালাতেন। ১৯৭০-এর দশকে লন্ডনে থাকার সময় তিনি হোটেলে ক্লিনারের কাজও করেছেন নিজের খরচ চালানোর জন্য। তাঁর বাবা-মা ১৯৫০-এর দশকে কুয়েতে চলে গেলেও, মিকিকে প্রথমে মুম্বই এবং পরে লন্ডনে অ্যাকাউন্টিং পড়ার জন্য পাঠানো হয়েছিল। তবে পড়াশোনা অসম্পূর্ণ রেখে জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন কাজ করতে হয় তাঁকে।

১৯৭৩ সালে পরিবারের একাধিক সদস্যকে হারানোর পর মাত্র ৬,০০০ ডলার বিনিয়োগ করে বাহরাইনে শিশুদের পণ্য ও খেলনার একটি ছোট দোকান খুলেছিলেন মিকি জগতিয়ানি, যার নাম ছিল ‘ল্যান্ডমার্ক’। ধীরে ধীরে সেই ব্যবসার বিস্তার ঘটে। উপসাগরীয় যুদ্ধের পর ১৯৯২ সালে মিকি ও রেণুকা দুবাইতে চলে আসেন এবং সেখান থেকেই ল্যান্ডমার্ক গ্রুপকে একটি বৃহৎ খুচরো ও আতিথেয়তা সংস্থায় রূপ দেন। ১৯৯৩ সালে রেণুকা আনুষ্ঠানিক ভাবে সংস্থায় যোগ দেন এবং ব্যবসার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।

Renuka's amazing Success Story will inspire you.

আরও পড়ুন: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান! সুপ্রিম নির্দেশ মাথায় রেখে প্রাথমিক শিক্ষক প্যানেল প্রকাশ করল পর্ষদ

২০২৩ সালে দীর্ঘ অসুস্থতার পর মিকি জগতিয়ানির মৃত্যু হলেও ভেঙে পড়েননি রেণুকা। তিন সন্তানের মা হিসেবে পরিবারের দায়িত্বের পাশাপাশি ব্যবসার হাল শক্ত হাতে ধরেন তিনি। ল্যান্ডমার্ক গ্রুপের চেয়ারপারসন হিসেবে আজও তিনি সংস্থার নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসাকে। তাঁর এই যাত্রা প্রমাণ করে, সংকল্প আর পরিশ্রম থাকলে ব্যক্তিগত ক্ষতি ও প্রতিকূলতার মধ্যেও সাফল্যের শিখরে পৌঁছনো সম্ভব।