বাংলা হান্ট ডেস্ক: ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day)। এই দিনটি প্রতিটি ভারতীয়র কাছে অত্যন্ত গর্বের ও ঐতিহাসিক দিন। কারণ, ১৯৫০ সালের এই দিনে ভারতের সংবিধান কার্যকর হয়েছিল। পাশাপাশি ভারত নিজেকে একটি সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক ও প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল। চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে ভারতবর্ষ তার ৭৭ তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করবে। যা আবার মনে করিয়ে দেয় আমাদের সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও গণতন্ত্রের শক্তিকে।
২৬ জানুয়ারির নেপথ্যে কী ইতিহাস? জানুন প্রজাতন্ত্র দিবসের তাৎপর্য (Republic Day)
তবে বহু মানুষের প্রশ্ন থাকে, ভারত স্বাধীন হয়েছে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট। তখন আবার কেন ২৬ জানুয়ারি কে প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day) দিনটা এতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর পিছনে রয়েছে এক অজানায় ইতিহাস, আজকে প্রতিবেদনে সেই ইতিহাস বলা হল। স্বাধীনতার পর ভারত একটি স্বাধীন দেশ হলেও তখনও নিজের সংবিধান কার্যকর হয়নি। দেশ পরিচালনার জন্য ব্রিটিশ আমলের ১৯৩৫ চালের সংশোধিত আইন অনুসরণ করা হচ্ছিল। তবে একটি স্বাধীন দেশের জন্য নিজস্ব সংবিধান থাকা অপরিহার্য। কারণ সংবিধান দেশের আইন, অধিকার ও দায়িত্বকে সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে।

আরও পড়ুন: রেলযাত্রীদের ভোগান্তির আশঙ্কা! দক্ষিণ পূর্ব রেলে ফের কাজ, একাধিক ট্রেন বাতিল ও রুট পরিবর্তন
খসড়া সংবিধান: দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একটি খসড়া সংবিধান তৈরীর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন ড. বি আর আম্বেদকর কে চেয়ারম্যান করে গঠিত হয় সংবিধান খসড়া কমিটি। দীর্ঘ আলোচনা, বিতর্ক ও গভীর চিন্তাভাবনার মাধ্যমে ভারতের সংবিধান তৈরি করা হয়। পাশাপাশি ১৯৪৯ সালে ২৬ নভেম্বর এটি গৃহীত হয়। যা আজ সংবিধান দিবস হিসাবে পরিচিত। তবে সংবিধান কার্যকর করার জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন বেছে নেওয়া হয়েছিল। আর সেটি ছিল ২৬ জানুয়ারি।
তবে ইতিহাসে ২৬ জানুয়ারির সঙ্গে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক গভীর ঐতিহাসিক যুগ রয়েছে। ১৯৩০ সালে ২৬ জানুয়ারি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস পূর্ণ স্বরাজ ঘোষণা করেছিল। এই দিনটাকে ভারতে প্রতীক হিসেবে স্মরণ করা হতো। পাশাপাশি এই ঐতিহাসিক স্মৃতিকে সম্মান জানাতে সংবিধান কার্যকর করার দিন হিসেবে ২৬ জানুয়ারি নির্বাচিত করা হয়। তাই এই দিনটি শুধু আইনত নয় আবেগগত ভাবেও প্রতিটি ভারতীয় ও জাতির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন।
এছাড়াও এই দিনটির গুরুত্ব কেবল অতিতের স্মরণে সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমান দিনেও আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ভারতের প্রকৃত শক্তি তার সংবিধান। সংবিধান নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র ও নাগরিকের দায়িত্ব নির্ধারণ করে। কারণ একটা প্রজাতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হন সংবিধান অনুযায়ী। এছাড়া প্রতি বছর ২৬ জানুয়ারি দিল্লির কর্তব্যপথে আয়োজিত হয় এক বর্ণাঢ্য প্রজাতন্ত্র দিবসের (Republic Day) প্যারেড হয়। আর এই প্যারেডে যোগদান করে – ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বায়ুসেনা এবং আধাসামরিক বাহিনীর শক্তি ও শৃঙ্খলা প্রদর্শিত হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যের ট্যাবলো ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, ঐতিহ্য এবং উন্নয়নের গল্প তুলে ধরে। এই দৃশ্য শুধু দেশবাসীকেই নয়, গোটা বিশ্বকে ভারতের ঐক্য ও সক্ষমতার বার্তা দেয়। একই সঙ্গে প্রজাতন্ত্র দিবসের আরেকটি বড় গুরুত্ব হল জাতির ঐক্য। অর্থাৎ ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যে ভরা ভারত এই দিনই একই পতাকার নিচে একত্রিত হয়। যার ফলে স্কুল, কলেজ, সরকারি দফতর ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও দেশাত্মবোধক অনুষ্ঠান করে এই দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।












