বাংলা হান্ট ডেস্ক: ফের চিন্তা বাড়াচ্ছে মুদ্রাস্ফীতি! প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, গত জুন মাসে খুচরো মুদ্রাস্ফীতি (Retail Inflation) বেড়ে ৪.৩৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। Ministry of Statistics and Programme Implementation তথা MoSPI কর্তৃক প্রকাশিত এই পরিসংখ্যান ইতিমধ্যেই উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে কারণ, গত ১৭ মাসে এই প্রথমবার মুদ্রাস্ফীতি ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্ধারিত ৪ শতাংশের নিরাপদ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। এর আগের সর্বোচ্চ হার ছিল গত মে মাসে, ৩.৯৩ শতাংশ। এদিকে, মুদ্রাস্ফীতির এই সাম্প্রতিক বৃদ্ধির প্রধান কারণ হল খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। এছাড়াও, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনা এবং বর্ষার গতিপথ সংক্রান্ত উদ্বেগও মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়েছে। বাজারগুলিও এমন পরিসংখ্যান প্রত্যাশা করেছিল। রয়টার্সের এক সার্ভেতে অর্থনীতিবিদরা ৪.৩ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স তথা CPI-র জন্য নতুন বেস ইয়ার এবং আপডেটেড বাস্কেট ভ্যালু লাগু হওয়ার পর এটাই মুদ্রাস্ফীতির সর্বোচ্চ হার।
জুন মাসে ৪.৩৮ শতাংশে পৌঁছল খুচরো মুদ্রাস্ফীতি (Retail Inflation):
খাদ্য মুদ্রাস্ফীতিও বাড়াচ্ছে চিন্তা: জানিয়ে রাখি যে, এই মুদ্রাস্ফীতির তথ্যে খাদ্য ও পানীয়ের অবদানই সবচেয়ে বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুন মাসে খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি ৫.৩২ শতাংশে পৌঁছেছে। যা গত মে মাসের ৪.৭৮ শতাংশ থেকে বেশি। আরও ঘনিষ্ঠভাবে দেখলে, খাদ্য মূল্যস্ফীতি গ্রামীণ এলাকায় ৫.৪৫ শতাংশ এবং শহরে ছিল ৫.০৯ শতাংশ। তবে, কিছু সবজি কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। গত জুন মাসে আলুর দাম ২০.৩৪ শতাংশ কমেছে (মে মাসে যা ২৩.৭১ শতাংশ কমেছিল)। গত বছরের মে মাসে টমেটোর দাম ৪৮ শতাংশের বেশি বাড়লেও, এবছর তা ৩১.৯২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের দাম এই স্বস্তিকে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে।

পেট্রোল ও ডিজেল সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে: এদিকে, শুধু খাদ্যই নয়, ভ্রমণ ও পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রও আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। জুন মাসে পরিবহণ ক্ষেত্রের মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৪.৩১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর প্রধান কারণ হল, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলি গত মে মাসে ৪ বার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়িয়েছিল। এটি সরাসরি পণ্য পরিবহণ পরিষেবাকে প্রভাবিত করেছে। যেখানে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৭.৭০ শতাংশে পৌঁছেছে। পরিবহণ খরচ বেশি হওয়ার অর্থ হল, বাজারে পৌঁছনো প্রতিটি পণ্যের দাম ক্রমশ বৃদ্ধি পাবে।
আরও পড়ুন: ৯৬৭ দিনের অপেক্ষার অবসান! ভারত-ইংল্যান্ডের প্রথম ODI-তেই ঘটবে বহু প্রতীক্ষিত ঘটনা
অর্থনীতিবিদদের মতে, আগামী দিনে সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এল নিনোর কারণে চলতি বছরের বর্ষা দুর্বল হলে ফসলের ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ভারতের কৃষি মূলত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর ওপর নির্ভরশীল। কারণ দেশের চাষযোগ্য জমির অনেকাংশেই উপযুক্ত সেচ ব্যবস্থা নেই।
অন্যদিকে, চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারী দেশ। ফলস্বরূপ, বিশ্ববাজারে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্য দেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি (CAD) আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। যার ফলে রুপি দুর্বল হতে পারে এবং আমদানিজনিত মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি থাকতে পারে।













