বাংলাহান্ট ডেস্ক: চিনের (Pakistan-China) সঙ্গে আর্থিক টানাপোড়েনে নতুন করে চাপে পাকিস্তান। একটি পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিন সরাসরি ইসলামাবাদকে ২২০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া যত দ্রুত সম্ভব পরিশোধের জন্য ‘আল্টিমেটাম’ দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ না মেটানো হলে সংশ্লিষ্ট জ্বালানি প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে বেইজিংয়ের তরফে। ‘দ্য নিউজ’ সংবাদপত্র সরকারি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
বকেয়া টাকা নিয়ে পাকিস্তান-চিন (Pakistan-China) সম্পর্কে ভাঙন!
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনের স্পষ্ট দাবি, অর্থ পরিশোধে বিলম্ব হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাবে এবং প্রকল্পের অগ্রগতিতেও তা বাধা হয় দাঁড়াবে। এই বকেয়া অর্থ মূলত ইউইপি (UEP) সংস্থার মাধ্যমে সুয়ি সাউদার্ন গ্যাস সংস্থাকে সরবরাহ করা গ্যাসের জন্য। বর্তমানে এই সংস্থা প্রতিদিন প্রায় ২৬০-২৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাচ্ছে। তবে অর্থাভাবের কারণে ইউইপি ইতিমধ্যেই কিছু কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: পরিণীতা-পরশুরামের হাড্ডাহাড্ডি, মাঝখানে চমক জোয়ার ভাঁটার, কার দখলে গেল সেরার শিরোপা?
এদিকে, বেইজিংয়ে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত পাক সরকারের কাছে একটি জরুরি বার্তা পাঠিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। সেখানে দ্রুত বকেয়া পরিশোধের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পাকিস্তানের স্পেশাল ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কাউন্সিলের তরফেও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে অবিলম্বে এই অর্থ মেটানোর পরামর্শ দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চাপের পেছনে কূটনৈতিক সমীকরণও কাজ করছে। সম্প্রতি পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করার চেষ্টা চালাচ্ছে, যা নিয়ে চিন অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। তারই মধ্যে এই আর্থিক চাপ ইসলামাবাদের উপর নতুন করে প্রভাব ফেলছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ৮.২৫ থেকে ১০ শতাংশ? পিএফ সুদ নিয়ে বড় আপডেট দিল কেন্দ্র
ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে জ্বালানি সঙ্কটে জর্জরিত পাকিস্তানের পক্ষে এই বিপুল অর্থ পরিশোধ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিন্ধ প্রদেশের একাধিক গ্যাস ক্ষেত্র এবং আরব সাগরের অফশোর ব্লক পরিচালনাকারী এই প্রকল্প পাকিস্তানের জ্বালানি ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বকেয়া পরিশোধে দেরি হলে পাকিস্তানের (Pakistan-China) শুধু অর্থনৈতিক নয়, জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।












