বাংলা হান্ট ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে দলের আর্থিক সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন আইনজীবী কপিল সিব্বল। কিন্তু আদালতে দেওয়া সেই হিসাবই এবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) শিবির। দলের ১৭টি পার্টি অফিসের ভাড়া, ২৫০ কর্মীর বেতন এবং অন্যান্য খরচের যে হিসাব কপিল সিব্বল আদালতে পেশ করেছেন, তা নিয়েই প্রশ্ন তুললেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
কালীঘাট তৃণমূলের খরচ প্রসঙ্গে ঋতব্রত (Ritabrata Banerjee)
তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী ওই ১৭টি পার্টি অফিস কোথায়, তা নিয়ে সরাসরি জবাব চাইলেন ঋতব্রত। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বলেন, তৃণমূলের ১৭টি পার্টি অফিসের জন্য প্রতি মাসে প্রায় এক কোটি টাকা ভাড়া দেওয়ার কথা আদালতে জানানো হয়েছে। অথচ বাস্তবে এতগুলি অফিসের অস্তিত্ব নিয়েই তাঁর প্রশ্ন রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ঋতব্রত বলেন, ”তৃণমূলের এই ১৭টি পার্টি অফিস কোথায়? আমরা একটা-দু’টোর কথা জানি। চার্টার্ড মাফিয়ার অফিস ধরলে তিনটে। ১৭টি অফিস কোথায়?” শুধু অফিসের সংখ্যা নয়, তৃণমূলের কর্মী তালিকাও খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন ঋতব্রত। আদালতে কপিল সিব্বলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দলের ২৫০ জন কর্মচারী রয়েছেন এবং তাঁদের বেতন বাবদ প্রতি মাসে ৫৩ লক্ষ টাকারও বেশি খরচ হয়। এই কর্মীদের নিয়ে কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন বিরোধী দলনেতা।
কত দিন ধরে তাঁরা তৃণমূলে কাজ করছেন, প্রত্যেকের বেতন কত এবং আদৌ তালিকায় থাকা প্রত্যেক কর্মী বাস্তবে রয়েছেন কি না—এসব তথ্য আদালতের কাছে চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তৃণমূলের আর্থিক লেনদেন নিয়ে এই প্রশ্ন তোলার নেপথ্যে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে কপিল সিব্বলের সওয়াল।
অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে যাওয়ায় দলের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে বলে আদালতে জানিয়েছিলেন আইনজীবী। তাঁর বক্তব্য ছিল, শুধু কর্মীদের বেতন নয়, দলের একাধিক নিয়মিত খরচও বর্তমানে মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দলের নিয়মিত কর্মীদের পাশাপাশি আরও কয়েকটি খাতে তৃণমূলকে অর্থ খরচ করতে হয় বলেও আদালতে উল্লেখ করা হয়। বিভিন্ন এজেন্সির কর্মী এবং নিরাপত্তাকর্মীদের পারিশ্রমিকও দলের তরফেই দিতে হয় বলে জানান তিনি। দলের দৈনন্দিন সাংগঠনিক কাজ চালু রাখার জন্য এই খরচগুলি প্রয়োজনীয়- সেই যুক্তি আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।

আরও পড়ুন : ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত ট্রেন বাতিল! যাত্রীদের ভিড় সামলাতে এক্সপ্রেসে অতিরিক্ত কামরা
যদিও তৃণমূলের এই আর্থিক সমস্যার দাবি নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে ইডির। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, যে অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করা হয়েছে, সেগুলির বাইরে দলের আরও যে অ্যাকাউন্ট রয়েছে, সেখানকার অর্থ ব্যবহার করেই তৃণমূল তার প্রয়োজনীয় খরচ চালাতে পারে। ইডির আইনজীবী এসভি রাজু আদালতে দাবি করেন, তৃণমূলের দুটি অ্যাকাউন্টেই অন্তত ১২০ কোটি টাকা রয়েছে।উল্লেখ্য, আদালতে দেওয়া তৃণমূলের আর্থিক হিসাবের প্রতিটি তথ্য খতিয়ে দেখেই রাজনৈতিক আক্রমণ আরও তীব্র করার পথে হাঁটতে চাইছে ঋতব্রতদের শিবির।













