বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিহারে (Bihar) প্রকাশ্যে মাছ ও মাংস বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল নীতীশ কুমার-এর সরকার। রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয়কুমার সিন্হা ঘোষণা করেছেন, রাজ্যের কোথাও প্রকাশ্যে মাছ বা মাংস বিক্রি করা যাবে না। নতুন বিধি কার্যকর হলে কেবলমাত্র বৈধ লাইসেন্সধারী দোকানদারেরাই নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এই ধরনের পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হবে।
বিহারে (Bihar) খোলা বাজারে মাছ-মাংস বিক্রি বন্ধ
উপমুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নতুন নিয়ম সকলের জন্য বাধ্যতামূলক হবে। কেউ নিয়ম ভাঙলে বা ভাঙার চেষ্টা করলে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “রাজ্যের কোথাও কোনও ভাবে প্রকাশ্যে মাছ, মাংস বিক্রি করা যাবে না। সরকার ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে নতুন বিধি তৈরি করতে চলেছে।” তবে কবে থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হবে কিংবা আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ঠিক কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন: পারস্পরিক সম্মতিতে তৈরি সম্পর্ক ভাঙলেই ধর্ষণের নালিশ গ্রহণযোগ্য নয়, যুগান্তকারী রায় হাইকোর্টের
সরকারি সূত্রের মতে, জনস্বাস্থ্য, শৃঙ্খলা ও পরিবেশগত বিষয় বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লাইসেন্স প্রথা চালু হলে বিক্রেতাদের নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে ব্যবসা করতে হবে। প্রশাসনের তরফে জেলাস্তরে নজরদারি বাড়ানোর কথাও ভাবা হচ্ছে। এতে রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের উপর বাড়তি দায়িত্ব বর্তাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত বছর মার্চ মাসে উত্তরপ্রদেশ সরকার ধর্মীয় স্থানের ৫০০ মিটারের মধ্যে মাংস বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। সে সময় সমস্ত জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ দিয়েছিল যোগী আদিত্যনাথ-এর প্রশাসন। বিহারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে সেই প্রেক্ষাপটেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যদিও বিহারে নিষেধাজ্ঞাটি পুরো রাজ্য জুড়েই প্রকাশ্য বিক্রির উপর প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: যাত্রীদের জন্য বড় রিলিফ, হোলি উপলক্ষে বাড়ছে স্পেশাল ট্রেনের মেয়াদ
এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংহ। তিনি বলেন, বিহার সরকারের পদক্ষেপ সঠিক দিশায় এগোনোর ইঙ্গিত দেয় এবং জেলাশাসকদের তা যথাযথভাবে কার্যকর করার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, বিহারে আগেই মদ বিক্রি নিষিদ্ধ করেছিল নীতীশ কুমারের সরকার। এবার প্রকাশ্যে মাছ ও মাংস বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় রাজ্যে খাদ্যবিক্রয় সংক্রান্ত নীতিতে আরও কড়াকড়ি আরোপ হল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।












