পারস্পরিক সম্মতিতে তৈরি সম্পর্ক ভাঙলেই ধর্ষণের নালিশ গ্রহণযোগ্য নয়, যুগান্তকারী রায় হাইকোর্টের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক : পারস্পরিক সম্মতিতে তৈরি হওয়া সম্পর্ক ভেঙে গেলে কিংবা বিয়ে পর্যন্ত না গড়ালেই তাকে ধর্ষণের মামলায় রূপান্তরিত করা যায় না। সম্প্রতি একটি মামলার শুনানিতে এমনই যুগান্তকারী রায় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।

কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বেনজির পর্যবেক্ষণ

এক যুবকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছেন আদালতের বিচারপতি চৈতালী চট্টোপাধ্যায়। আর এই নির্দেশ দিতে গিয়ে বিচারপতি বলেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারিরীক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে ‘সম্মতি’র সম্ভাবনা যদি খারিজ করতে হয়, তবে প্রথমে করতে হবে যে অপর পক্ষের প্রতিশ্রুতি প্রথম থেকেই মিথ্যে ছিল। পরবর্তীতে সম্পর্ক ভেঙে গেলে বা বিয়ে না হলে আগে দুজনের সম্মতিতে তৈরি হওয়া সম্পর্ককে ক্রিমিনাল মামলায় পরিণত করা যায় না।

Calcutta High Court order on relationship and rape charge

কী অভিযোগ উঠেছে: উল্লেখ্য, পুলিশের কাছে অভিযোগকারিনী বলেছিলেন, ২০১৭ তে যুবকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৮ তে জোর করে মদ্যপান করিয়ে তাঁর উপরে যৌন নির্যাতন করা হয়। সে সময় থেকেই নাকি যুবক বিয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দিঘা, গোয়া বিভিন্ন জায়গায় তাঁরা একসঙ্গে ঘুরতে গিয়েছেন। এমনকি অভিযোগকারিনী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় তাঁকে নাকি গর্ভপাত করাতে বাধ্য করা হয়। এরপরেই যুবক তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। সেই সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ।

আরও পড়ুন : সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর অবশেষে SSC নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু, ফেব্রুয়ারিতেই প্রথম কাউন্সেলিং

কী জানাল আদালত: মামলাটি হাইকোর্টে (Calcutta High Court) উঠলে আদালতের পর্যবেক্ষণ, অভিযোগকারিনীর গোপন জবানবন্দি, চিকিৎসার নথি থেকে ভ্রমণের তথ্য সব খতিয়ে দেখে বোঝা যাচ্ছে যে, ২০১৭ থেকে ২০২২ পর্যন্ত দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সে সময় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।

আরও পড়ুন : প্রতীক উরের পথে হেঁটে কি সিপিএম ছাড়ছেন সৃজনও? জল্পনার মাঝেই মুখ খুললেন বাম নেতা

গর্ভপাত অভিযোগকারিনীর সম্মতিতেই হয়েছে। আদালত আরও বলে, ২০১৮ তে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। অথচ তারপরেও একাধিক বার অভিযোগকারিনী ওই যুবকের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে সহবাস করেছেন। তা জবরদস্তি বলে এখন দাবি করা হলেও তা বাস্তবকে অস্বীকার বলে পর্যবেক্ষণ আদালতের।