বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বৈচিত্র্যময় এই পৃথিবীর (Earth) প্রতিটি কোণায় কোণায় লুকিয়ে রয়েছে নানান অজানা রহস্য। অথচ সময়ের সাথে ক্রমশ এই পৃথিবীই এগিয়ে চলেছে ধ্বংসের (End of World) মুখে। শুনতে অবাক লাগলেও, সম্প্রতি একটি গবেষণার মাধ্যমে এমনই এক রহস্য উন্মোচন করেছেন দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে একটা প্রশ্ন বহুজনের মাথাতেই ঘোরে সেটা হল, পৃথিবী কখন এবং কীভাবে শেষ হতে চলেছে?
পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব আর কতদিন?
সম্প্রতি পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে এক বিস্ময়কর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে জেজিআর বিখ্যাত অ্যাটমোস্ফিয়ারস জার্নালে (Atmosphere Journal)। ওই জার্নালে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জটিল জলবায়ু মডেলের উপর ভিত্তি করে, পৃথিবীর বুকে জীবনের আয়ু প্রায় ১.৮ বিলিয়ন বছর। পরিসংখ্যানের হিসাবে যা অতীতের একাধিক গবেষণায় উঠে আসা সময়সীমার থেকে অনেক বেশি।
সূর্যের বয়স ও সৌরজগতে তার পরিবর্তনশীল অবস্থানের ওপরেও পৃথিবীর ভবিষ্যত অনেকাংশে নির্ভরশীল। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ক্রমশ বাড়ছে সূর্যের উজ্জ্বলতা এবং তাপমাত্রা। আগামী দিনে যার ব্যাপক প্রভাব পড়তে চলেছে জীব বৈচিত্রের ওপর। যার ফলে সমুদ্রের বিপুল জলরাশি বাষ্পীভূত হবে এবং সব গাছপালা ধ্বংস হয়ে যাবে। বিজ্ঞানীদের দাবি সূর্যের এই ক্রমবর্ধমান তাপ ভবিষ্যতে পৃথিবীর ধ্বংসের অন্যতম কারণ হতে চলেছে।
আরও পড়ুনঃ ভেঙেছে তৃণমূল আমলের কমিটি, নতুন নিয়ম আসছে তারাপীঠের মা তারার মন্দিরে
যতদিন না সূর্যের বিনাশ ঘটছে ততদিন পর্যন্ত অর্থ্যাৎ আগামী ৫ বিলিয়ন বছর ধরে এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া চলবে। আগামীদিনে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং সূর্যের তাপ বৃদ্ধির কারণে, ভয়ঙ্কর অবস্থার সৃষ্টি হতে চলেছে। যার ফলে পৃথিবীর সমস্ত জলভাগ শুকিয়ে যাবে, আর তাই জলের অভাবে ভবিষ্যতে প্রাণেরও কোনো অস্তিত্ব থাকবে না পৃথিবীতে।
পৃথিবীর প্রাকৃতিক থার্মোস্ট্যাট সিস্টেম
পৃথিবী তার নিজস্ব পদ্ধতিতে বিগত ৪ বিলিয়ন বছর ধরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে । বিজ্ঞানের ভাষায়, যা প্রাকৃতিক থার্মোস্ট্যাট নামে পরিচিত। এই পদ্ধতিতে পৃথিবী পাথরের মধ্যে কার্বন ডাই অক্সাইড সংরক্ষণ করে এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হলে তা আবার ছেড়ে দেয়। গবেষকদের দাবি এই থার্মোস্ট্যাট পদ্ধতির কারণেই পৃথিবী পৃষ্ঠের তাপমাত্রা আজও বাসযোগ্য রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মমতা না ঋতব্রত, কার হবে তৃণমূল? জবাবদিহি চেয়ে ডেডলাইন দিল নির্বাচন কমিশন
অতীতের গবেষণার সাথে পার্থক্য
১৯৮২ সালের পূর্ব গবেষণা অনুযায়ী, জেমস লাভলক এবং তার সহকর্মীরা অনুমান করেছিলেন আজ থেকে প্রায় ১০০ মিলিয়ন বছরের মধ্যে পৃথিবীর জীবমণ্ডল এবং সমস্ত উদ্ভিদ ধ্বংস হয়ে যাবে। যদিও পরবর্তীতে একাধিক গবেষণায় এই সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি এই একই বিষয়ে গবেষণা করেছিলেন জ্যোতির্জীববিজ্ঞানী জ্যাকব হক-মিশ্র এবং ব্লু মার্বেল স্পেসের এরিক ওল্ফ। মোট ২৯ টি জটিল জলবায়ু মডেল ব্যবহার করেছিলেন তাঁরা। পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্ব কতদিন থাকতে পারে সেই রহস্য উন্মোচনের জন্য গবেষণায় চরম সীমাবদ্ধতা পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন বিজ্ঞানী জ্যাকব হক-মিশ্র।













