বাংলা হান্ট ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যে নতুন সরকার গঠন হয়েছে। তারপর থেকেই নানান রকমের কার্যক্রম শুরু হয়ে গিয়েছে রাজ্যজুড়ে। এবার সেই মতনই দীর্ঘদিনের জটকাটি পুরোপুরি হকার মুক্ত করা হল দেশের অন্যতম ব্যস্ততম শিয়ালদহকে (Sealdah)। পূর্ব রেলের সূত্রের খবর, রবিবার স্টেশনের সমস্ত প্ল্যাটফর্ম ও স্টেশন নিয়ে ঢোকার চত্বরে মিলিয়ে ২৫০ এর বেশি অবৈধ হকার কে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের পরেই রেল কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
শিয়ালদহ স্টেশন থেকে সরানো হল ২৫০টি দোকান (Sealdah)
তবে রেলের সিদ্ধান্তে স্বস্তি পেয়েছেন শিয়ালদহ ডিভিশনের লক্ষ লক্ষ নিত্যযাত্রী। এই বিষয়ে রেলওয়ে বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শিয়ালদহ (Sealdah) ডিভিশনের বিভিন্ন শাখা মিলিয়ে দিনে প্রায় ১২ লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করেন। দৈনিক ৮৮৫ থেকে ৯২১টি শহরতলির লোকাল ট্রেন ওই স্টেশন থেকে ছাড়ে। বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে প্ল্যাটফর্ম জুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো হকারদের পসরা বসে যাচ্ছিল। যার ফলে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছিলেন যাত্রীরা।

আরও পড়ুন: তাপপ্রবাহের পরিস্থিতিতে সতর্ক প্রশাসন, স্কুল খোলা নিয়ে জারি নতুন নির্দেশিকা
যদিও এর আগের শাসকদলের ইউনিয়নগুলির দাপট এবং রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার জেরে বারবার চেষ্টা করেও রেল এই হকারদের সরাতে পারছিল না। ফলে অল্প অল্প করে জায়গা দখল, প্ল্যাটফর্মে নোংরা ফেলা এবং যাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচলের পথ অবরুদ্ধ হওয়া নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
তবে শনিবার রাতে হাওড়া স্টেশনের সামনে থাকা হকারদেরও তুলে দেওয়া হয়েছে। পূর্ব রেলের এক কর্তা বলেন, স্টেশন চত্বর যাত্রীদের স্বচ্ছন্দ্যে চলাচলের জন্য, জায়গা দখল করে ব্যবসা করার জন্য নয়। হকারদের দাপটে যাত্রীরা চরম সমস্যার মুখে পড়ছিলেন। চূড়ান্ত পদক্ষেপ করার আগে হকারদের আইনি নোটিস ধরিয়ে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
অনেকেই নিজে থেকে সরে যান, তবে যাঁরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টালবাহানা করছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্টেশন চত্বর যাতে ফের বেদখল না হয়ে যায়। তার জন্য আগামী দিনে আরপিএফ ও রেল পুলিশের তরফে যৌথ ভাবে কড়া নজরদারি চালানো হবে বলেও রেল জানিয়েছে।
পাশাপাশি রেলের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা বলেন, শিয়ালদহের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম হকারদের দখলে থাকায় এতদিন বহু দুর্ঘটনা ঘটত। তবে এই বিষয়ে তীব্র বিরোধিতা করেন তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী প্রশ্ন করেন, দিন আনা দিন খাওয়া মানুষদের পেটে লাথি মারা হয়েছে এই উচ্ছেদ করে (Sealdah)।













