বাংলা হান্ট ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের নতুন অধ্যায় শুরু করার লক্ষ্যে সক্রিয় হয়েছে রাজ্য সরকার। নির্বাচনের সময় রাজ্য থেকে অন্যত্র চলে যাওয়া শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে ফের বাংলায় ফিরিয়ে আনার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। ক্ষমতায় আসার পর সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বৈঠক করেন শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। মুম্বইয়ে গিয়ে বিভিন্ন শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি।
বাংলায় শিল্প ফেরাতে শমীকের (Shamik Bhattacharya) বৈঠক
বহু বছর আগে পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসা গুটিয়ে অন্য রাজ্যে শিল্প স্থাপন করা একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্যে বর্তমানে শিল্প স্থাপনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলে তাঁদের সামনে তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে কারখানা গড়ে তোলা ও পুঁজি বিনিয়োগের জন্য আবেদন জানান শমীক। প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতা পাওয়ার উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শও তিনি দেন।
এই বৈঠকে শুধু প্রচলিত শিল্পক্ষেত্র নয়, টেক্সটাইল, ইস্পাত, কাচ ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত বিনিয়োগকারী এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কাজ করা বিভিন্ন স্টার্ট-আপ সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলাদা আলোচনা করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। পশ্চিমবঙ্গে শিল্প স্থাপনের সুযোগ, সরকারের পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনার কথা তাঁদের সামনে তুলে ধরে রাজ্যে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠক শেষে শিল্পপতিদের মনোভাব নিয়ে আশাবাদী সুর শোনা যায় শমীক ভট্টাচার্যের কণ্ঠে। তাঁর দাবি, বাংলায় শিল্প গড়ে তোলার বিষয়ে একাধিক ব্যবসায়ী ইতিবাচক আগ্রহ দেখিয়েছেন। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “নতুন শিল্পনীতি ও নতুন জমিনীতি নিয়ে আমাদের সরকার কাজ করছে। গত চার দশক ধরে যাঁরা বাংলা ছেড়ে চলে গিয়েছেন কিন্তু, যাঁদের সঙ্গে বাংলার একটা নাড়ির যোগ রয়েছে, যাঁরা তিন পুরুষ ধরে বাংলায় ব্যবসা করেছেন, কিন্তু এখন হয়তো ভিনরাজ্যে গিয়ে ব্যবসা করছেন। উন্নতি করেছেন। তাঁরা কিন্তু আগ্রহী। তাঁরা গতকাল মুম্বইয়ে আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। আমি তো সরকার নই। আমি দল। আমি বলেছি, আমার সরকার কাজ করছে। আমাদের বিশ্বাস, খুব দ্রুত পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দেখতে পাবেন শিল্পায়নটা হচ্ছে এই রাজ্যে।”

আরও পড়ুন :পেনশনারদের ৫০% বকেয়া DA চলতি মাসেই! কারা, কত পাবেন? বড় ঘোষণা নবান্নের
রাজ্যের শিল্পোন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের উপর জোর দিচ্ছে সরকার। শিল্পপতিদের সঙ্গে এই ধারাবাহিক বৈঠক ভবিষ্যতে বাস্তব বিনিয়োগে কতটা পরিণত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।













