বাংলা হান্ট ডেস্ক : কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ধর্মতলা। অথচ শহরের এই প্রাণকেন্দ্রের ফুটপাথজুড়ে প্লাস্টিকের আচ্ছাদন, দখলদারি এবং ব্যবসার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এবার সেই ছবিই বদলানোর বার্তা দিল বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে শমীক ভট্টাচার্যের স্পষ্ট নির্দেশ, ধর্মতলাকে পরিষ্কার করার কাজ শুরু করতে হবে অবিলম্বে।
কী বার্তা দিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) ?
বছরের পর বছর ধরে ধর্মতলা ও এসপ্ল্যানেড এলাকার একাধিক ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। রাস্তার ধারে থাকা দোকানগুলির সামনেও অনেক জায়গায় প্লাস্টিকের চাদর টাঙিয়ে রাখায়, পথচারীদের চলাচল যেমন সমস্যার মুখে পড়ে, তেমনই কলকাতার সৌন্দর্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
নতুন সরকারের আমলে শহরের বিভিন্ন জায়গায় দখলদারি সরানোর উদ্যোগে এবার ধর্মতলা নিয়েও দলের অবস্থান স্পষ্ট করলেন শমীক। শমীক বলেন, “ধর্মতলাকে পরিষ্কার করুন। তাহলে তো বোঝা যাবে নতুন সরকার এসেছে। ফুটপাত দখল করে প্ল্যাস্টিক লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। শতাব্দী প্রাচীন দোকানগুলি আড়ালেই থাকে। সেই মানুষগুলো তো কর্পোরেশনকে দীর্ঘদিন ধরে ট্যাক্স দিচ্ছেন। আমাদের দেশের অর্থব্যবস্থার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ আছে। তাদের অধিকার রক্ষা করার দায়িত্ব কাউন্সিলরদের।”
শুধু দোকানের সামনে থাকা প্লাস্টিক বা ফুটপাথের দখল নয়, গোটা ধর্মতলা-এসপ্ল্যানেড এলাকাকেই দ্রুত ফাঁকা করার পক্ষে সওয়াল করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, এই কাজের জন্য আলাদা করে কোনও নির্দেশের অপেক্ষায় বসে থাকার প্রয়োজন নেই। স্থানীয় কাউন্সিলরদের নিজেদের দায়িত্ব বুঝে পদক্ষেপ করতে হবে। তবে এই উদ্যোগে যাতে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও বার্তা দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, সমন্বয়ের মাধ্যমেই আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখে এই কাজ করা সম্ভব।
এদিন কাউন্সিলরদের উদ্দেশে আরও কড়া ভাষায় শমীক বলেন, “ভুল করেও মহেশতলারা স্বপ্ন দেখবেন না, খিদিরপুর স্বপ্ন দেখবেন না। ধর্মতলা থেকে সরে যান। কাউন্সিলরদের বলছি, দায়িত্ব নিয়ে ধর্মতলা পরিষ্কার করুন। এর জন্য কোনও নির্দেশের অপেক্ষা করবেন না। এটা পার্টির অবস্থান। প্রতিজ্ঞা করুন এই কাজ কাল থেকেই করতে হবে।”

আরও পড়ুন : আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, বাংলার পাতুরি স্টাইলে বানান এই কেরালিয়ান ডিশ
স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ থেকে শমীকের ধর্মতলা নিয়ে তাঁর নির্দেশের পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বাস্তবে কত দ্রুত শুরু হয় দখলমুক্তির প্রক্রিয়া। কলকাতার প্রাণকেন্দ্রের ফুটপাথ সত্যিই বদলায় কি না, তা নিয়েই এবার নজর শহরবাসীর।













