বাংলাহান্ট ডেস্ক: এক সময় ভরসা করে ব্যাঙ্ক ভরসা করে ঋণ দিতে অস্বীকার করে তাঁকে। সেই যুবকই তাঁর স্টার্টআপ উদ্যোগ নিয়ে রাজস্থানের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা শঙ্কর মীনা আজ মাশরুম চাষে সাফল্যের (Success Story) এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন। ‘জীবন মাশরুম’ নামের তাঁর উদ্যোগে বোতাম, ঝিনুক, লায়নস মেন, গ্যানোডার্মা ও পোর্টোবেলোসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাশরুম উৎপাদন করা হয়। শুরুতে ব্যাঙ্ক ঋণ না পেলেও নিজের উদ্যোগ ও পরিশ্রমের জোরে তিনি ব্যবসাকে দাঁড় করান। বর্তমানে এই উদ্যোগ থেকেই তাঁর আয় লক্ষাধিক টাকা ছুঁয়ে গেছে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বার্ষিক আয় প্রায় ৯০ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে।
শঙ্কর মীনার অনন্য সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
দান্তলি নামের ছোট্ট একটি গ্রামে এক কৃষক পরিবারে জন্ম শঙ্করের। ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখেছেন তথাকথিত চাষাবাদে কঠোর পরিশ্রমের পরও স্থায়ী আয়ের কোনও নিশ্চয়তা নেই। গ্রামেই স্কুল শিক্ষা শেষ করে পরে বাণিজ্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১২ সালে রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ কোর্সে ভর্তি হলেও সেখানে তিনি খুব দ্রুতই বুঝতে পারেন যে তাঁৎ সমফল উদ্যাক্তা হওয়ার লক্ষ্য এভাবে এই পাঠ্যক্রমে থেকে পূরণ হবে না। তাই ২০১৩ সালে দ্বিতীয় সেমিস্টারেই পড়াশোনা ছেড়ে দেন তিনি।
আরও পড়ুন:১ এপ্রিল থেকেই চালু যুবসাথী, ভোটের আগেই অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে টাকা?
এরপর আর চাকরির পথে না গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি জীবিকার সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্যেই ব্যবসা শুরুর সিদ্ধান্ত নেন শঙ্কর। এই উদ্দেশ্যে জয়পুরের কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে ডঃ প্রদীপ সিং শেখাওয়াত-এর তত্ত্বাবধানে তিনি মাশরুম চাষের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও নেন। যে প্রশিক্ষণ তাঁকে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও ব্যবসা পরিচালনার স্পষ্ট ধারণা দেয়, যা পরবর্তীতে কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ শুরু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
পরবর্তীতে ২০১৫ সালে মাশরুম চাষের আরও উন্নত কৌশল শেখার জন্য তিনি ICAR-Directorate of Mushroom Research-এর একটি ওয়ার্কশপে অংশ নিতে হিমাচল প্রদেশের সোলানে যান। সেখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি, বীজ অঙ্কুরোদগম চেম্বার, অটোক্লেভ ও ল্যামিনার এয়ারফ্লো ক্যাবিনেট ব্যবহার করে কীভাবে জীবাণুমুক্ত পরিবেশে উৎপাদন করা যায় তার পদ্ধতি শেখেন। যেহেতু তিনি একজন বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র ছিলেন শুরুতে ল্যাবের কাজ ও মাইক্রোবায়োলজি সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা না থাকায় নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

আরও পড়ুন: লিভার ক্যান্সারের বিরুদ্ধে থামল লড়াই! না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন রিঙ্কু সিংয়ের বাবা
তবে জয়পুর ও সোলানে প্রশিক্ষণ শেষ করার পর নির্বীজন, ইনকিউবেশন ও টিকাদানের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন প্রক্রিয়া আয়ত্ত করেন তিনি। আর সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন ‘জীবন মাশরুম’। বর্তমানে এই উদ্যোগ শুধু লাভজনক ব্যবসাই নয়, গ্রামীণ কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি করছে। শঙ্কর মীনার সাফল্যের গল্প প্রমাণ করে, সঠিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ থেকেও বড় অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।












