বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্য রাজনীতিতে (West Bengal Politics) SIR ইস্যু ঘিরে সোমবার কার্যত উত্তাল হয়ে উঠল বাংলা থেকে দিল্লি, দুই প্রান্তই। একদিকে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে বিক্ষোভ করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে রাজ্যে প্রশাসনের বিরুদ্ধে চাপ বাড়াতে মাঠে নেমেছে বিজেপি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে জেলায় জেলায় ডেপুটেশন, মুখ্যসচিবকে চিঠি, এমনকি রাজ্যপালের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত, সব মিলিয়ে SIR বিতর্ক এখন রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
মুখ্যসচিবকে চিঠি শুভেন্দুর (West Bengal Politics)
এই আবহে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে চিঠি দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সোমবার অর্থাৎ ২ তারিখ সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু নবান্ন সূত্রে জানা যায়, মুখ্যসচিবের দপ্তর থেকে জানানো হয়, আজ নয়, ৬ তারিখ সময় দেওয়া সম্ভব। এই প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়ে ফের চিঠি দেন শুভেন্দু। তাঁর যুক্তি, ৬ তারিখ বিধানসভার অধিবেশন চলবে, ফলে সেদিন সাক্ষাৎ করা সম্ভব নয়। বিজেপির দাবি, এই দ্বিতীয় চিঠির কোনও জবাব এখনও নবান্ন থেকে আসেনি (West Bengal Politics)।
রাজ্যপালের দ্বারস্থ বিজেপি
প্রশাসনিক স্তরে সাড়া না পেয়ে শেষ পর্যন্ত রাজভবনের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি। ঠিক হয়, সোমবার বিকেল চারটে নাগাদ শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করবে এবং SIR সংক্রান্ত সমস্ত অভিযোগ তাঁর সামনে তুলে ধরবে (West Bengal Politics)।
দিল্লিতে উত্তেজনা, গর্জে উঠলেন মমতা
অন্যদিকে দিল্লিতে SIR ইস্যু নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নেয়। বাংলা থেকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া ‘SIR-এ ক্ষতিগ্রস্ত’ পরিবারের সদস্যদের হেনস্থার অভিযোগ পেয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খবর পাওয়ার পর ঘরের শাড়িতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে ছুটে যান দিল্লির বঙ্গভবনে। এদিন দিল্লি পুলিশের ভূমিকাকে কেন্দ্র করেও তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হয়ে মমতা অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবেই এসআইআর আক্রান্তদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুনঃ বঙ্গভবন ঘিরল পুলিশ! ‘ঘরের কাপড়েই’ অভিষেক কে সাথে নিয়ে ছুটলেন মমতা, তারপর…
সব মিলিয়ে সোমবার দিনভর প্রশাসনিক স্তর থেকে রাজভবন, নবান্ন থেকে দিল্লি, সর্বত্রই এসআইআর ইস্যুতে উত্তাপ ছিল চরমে। রাজ্য সরকার এবং বিরোধী বিজেপির মুখোমুখি অবস্থান ঘিরে আগামী দিনে এই বিতর্ক আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল (West Bengal Politics)।












