বাংলাহান্ট ডেস্ক: শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janata Party)। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের মত জানিয়েছেন সোনম। তাঁর দাবি, তিন প্রতিষ্ঠাতারই রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে। তবে রাজনৈতিক স্বপ্ন থাকা কোনও অপরাধ নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। তাঁর মূল আপত্তি ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি রাজনীতিকে মিশিয়ে দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে।
‘ককরোচ’-দের প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk):
একটি পডকাস্টে সোনম (Sonam Wangchuk) বলেন, ‘ককরোচ’-এর তিন নেতার সঙ্গেই তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তাঁদের কেউই তাঁকে সরাসরি রাজনীতিতে যাওয়ার কথা জানাননি। তবে তাঁদের কর্মকাণ্ড দেখে তাঁর মনে হয়েছে, ভবিষ্যতে তাঁরা রাজনীতিতে পা রাখতে পারেন। সোনমের কথায়, এতে আপত্তির কিছু নেই। বরং দেশের রাজনীতিতে আরও বেশি তরুণের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। কিন্তু তাঁর মতে, কোনও ছাত্র আন্দোলনকে ব্যক্তিগত বা দলীয় রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের হাতিয়ার করা উচিত নয়।
আরও পড়ুন: নাইটক্লাব, ব্যাঙ্ক, মেট্রো স্টেশন সব জায়গায় করা যাবে বিয়ে! জন্মহার বাড়াতে অভিনব সিদ্ধান্ত চিনের
এই প্রসঙ্গে আন্দোলনের একটি পর্যায় নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন সোনম। তাঁর দাবি, যন্তর মন্তরে পুলিশের পদক্ষেপের পর প্রতিবাদস্থল ভেঙে দেওয়া হলে অনেক আন্দোলনকারী সেখান থেকে সরে যান। সেই পরিস্থিতিতে ‘ককরোচ’ নেতৃত্বও কিছুটা মনোবল হারিয়ে ফেলেছিল বলে তাঁর মত। এমনকি সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই আন্দোলন গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ-সহ পাঁচ দফা দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন সোনম ওয়াংচুক। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তিনি টানা ২৬ দিন অনশনও করেছিলেন। আন্দোলন চলাকালীন ‘ককরোচ’ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতাও ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই সম্পর্কের সমীকরণ বদলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ইসরোর ‘বাহুবলী’ রকেট এবার বেসরকারি হাতে! LVM3 তৈরির দৌড়ে আদানি, L&T-সহ একাধিক সংস্থা
পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে আন্দোলনের দাবিগুলির মধ্যে একটি পূরণ হওয়ার পর। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও সোনমের অভিযোগ, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র তরফে তাঁকে ন্যূনতম কৃতজ্ঞতাও জানানো হয়নি। বরং আন্দোলনের সাফল্যের কৃতিত্ব অনেকটাই নিজেদের বলে তুলে ধরা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। আর সেখান থেকেই সোনম (Sonam Wangchuk) ও ‘ককরোচ’ নেতৃত্বের মধ্যে দূরত্ব তৈরির জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই পুরনো মতবিরোধই ফের প্রকাশ্যে এল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।













