বাংলাহান্ট ডেস্ক: তবে এবার কি অপেক্ষার অবসান? দীর্ঘদিনের আলোচনার পর অবশেষে ভারত ও আমেরিকার (India-America) মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর দুই দেশের তরফেই ইতিবাচক বার্তা মিলেছে। মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের জটিলতা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা গিয়েছে এবং এখন কেবল কয়েকটি ছোটখাটো বিষয় নিষ্পত্তির অপেক্ষা।
সম্পন্ন হতে চলেছে ভারত-আমেরিকার (India-America) বহু প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি:
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দর্পণ জৈন, আর মার্কিন পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন ব্রেন্ডন লিঞ্চ। উভয় পক্ষের আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার সিংহভাগ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বছরের শুরুতেই একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাঠামো নিয়ে দুই দেশ একমত হয়েছিল, আর সেই পথ ধরেই এখন পূর্ণাঙ্গ চুক্তির দিকে এগোচ্ছে দিল্লি ও ওয়াশিংটন।
আরও পড়ুন: ভারতের UPI-তে মজে গোটা বিশ্ব! জাপান-মালয়েশিয়ার পর এবার এই দেশে চালু পরিষেবা
চুক্তি নিয়ে আশাবাদী কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রথম ধাপের খসড়া তৈরি হয়ে গেছে। তাঁর মতে, এই চুক্তিতে ভারতের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা হয়েছে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার নিরিখে এটি দেশের জন্য একটি ‘সেরা’ ডিল হতে চলেছে। সরকারের তরফে দাবি করা হচ্ছে, এই চুক্তি কার্যকর হলে ভারতীয় শিল্প ও ব্যবসা আরও শক্তিশালী ভিত্তি পাবে।
এই বাণিজ্য চুক্তি শুধুমাত্র আমদানি-রফতানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক করে তুলবে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এই উদ্যোগকে ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির কথাও উঠে এসেছে আলোচনায়, যা ভবিষ্যতে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও দৃঢ় করবে।

আরও পড়ুন: সিঁথির সিঁদুরে নিষেধাজ্ঞা, টিপের ক্ষেত্রে বিশেষ শর্ত! এবার এয়ার ইন্ডিয়ার পোশাক বিধিতে শুরু বিতর্ক
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুল্ক হ্রাস এবং বাণিজ্য বৃদ্ধি, এই দুই ক্ষেত্রেই এই চুক্তি বড় ভূমিকা নেবে। বর্তমানে শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও স্বাক্ষরের অপেক্ষা। চুক্তি কার্যকর হলে দুই দেশের বাজারে নতুন লগ্নির সুযোগ তৈরি হবে এবং ব্যবসার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে ভারত-আমেরিকা (India-America) সম্পর্কের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।












