বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় আরও এক ধাপ এগোল ভারতের ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা UPI (Unified Payments Interface)। জাপান, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার পর এবার দক্ষিণ কোরিয়াতেও চালু হতে চলেছে এই পরিষেবা। দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মাধ্যমে স্থানীয় কিউআর-ভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে UPI-কে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে দক্ষিণ কোরিয়ায় ভারতীয় পর্যটক, ছাত্রছাত্রী বা কর্মীরা সহজেই UPI ব্যবহার করে লেনদেন করতে পারবেন।
এবার দক্ষিণ কোরিয়ায় চালু হতে চলেছে ভারতের ইউপিআই (Unified Payments Interface):
এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয় নরেন্দ্র মোদী এবং লী জে- মিয়ংয়ের মধ্যে হওয়া দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে। হায়দ্রাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়। তারই অংশ হিসেবে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার এই সংযুক্তিকরণকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:সিঁথির সিঁদুরে নিষেধাজ্ঞা, টিপের ক্ষেত্রে বিশেষ শর্ত! এবার এয়ার ইন্ডিয়ার পোশাক বিধিতে শুরু বিতর্ক
তবে সাধারণ মানুষের জন্য এই পরিষেবা চালু হওয়ার আগে কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাকি রয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট পেমেন্ট সংস্থাগুলির অনুমোদন প্রয়োজন। এই অনুমোদন মিললে ভারতীয়রা তাদের নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ায় কেনাকাটা বা অন্যান্য পরিষেবার জন্য UPI ব্যবহার করতে পারবেন।
বর্তমানে মালয়েশিয়া, কাতার, শ্রীলঙ্কা, ফ্রান্স এবং ইজরায়েলের মতো একাধিক দেশে ইতিমধ্যেই UPI পরিষেবা চালু রয়েছে। এই তালিকায় দক্ষিণ কোরিয়ার সংযুক্তি ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আন্তর্জাতিক প্রসারকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরও প্রতিফলন।

আরও পড়ুন:কলেজে ফেল করেও কোটি কোটি টাকার প্যাকেজ! মেটা-মাইক্রোসফট-উবেরের অফার ফেরালেন কার্তিক
এই সফরে ডিজিটাল পেমেন্টের (Unified Payments Interface) পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কোরিয়ান ভাষা শিক্ষা, সংস্কৃতি বিনিময় এবং মুম্বইয়ে কোরিয়ান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, এই চুক্তি ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।












