বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে মামলা এখন সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পৌঁছেছে। আদালতের নির্দেশে তৈরি হওয়া ইন্দু মালহোত্রা কমিটির রিপোর্ট নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কবে সেই রিপোর্ট জমা পড়বে এবং তারপর কী সিদ্ধান্ত হবে, সেটাই এখন সবার নজরে।
ডিএ (Dearness Allowance) ইস্যুতে সময় বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার?
সুপ্রিম কোর্ট আগে বলেছিল, বকেয়া ডিএ-র (Dearness Allowance) ২৫ শতাংশ দ্রুত কর্মচারীদের দিতে হবে। কিন্তু এখনও সেই টাকা দেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ। কর্মচারী সংগঠনগুলোর দাবি, সরকার আইনি পথে সময় বাড়ানোর চেষ্টা করছে। শোনা যাচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টে একটি রিভিউ পিটিশন দাখিল করার প্রস্তুতি চলছে। যদিও অনেকের ধারণা, এই ধরনের আবেদন সাধারণত টেকে না।
তবে রিভিউ পিটিশন খারিজ হলেও পরে আবার মডিফিকেশন অ্যাপ্লিকেশন জমা দিয়ে বিষয়টি আরও কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে আন্দোলনকারীদের ধারণা। তাদের মতে, এতে নির্বাচন পর্যন্ত সময় কাটানোর পরিকল্পনাও থাকতে পারে। এছাড়াও জানা গেছে, ইন্দু মালহোত্রা কমিটি রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে কিছু তথ্য চেয়েছিল। কিন্তু সেই বিষয়ে সরকার যথেষ্ট সহযোগিতা করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে।
সিএজি রিপোর্টের ওপর ভর করে তৈরি হয়েছে রিপোর্ট
সরকারের কাছ থেকে সব তথ্য না পেলেও কমিটি তাদের কাজ চালিয়ে গেছে। ইন্দু মালহোত্রা কমিটির মূল দায়িত্ব ছিল বকেয়া ডিএ-র (Dearness Allowance) বাকি ৭৫ শতাংশ কীভাবে এবং কত কিস্তিতে দেওয়া সম্ভব, সেই বিষয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরি করা।
সূত্রের খবর, রাজ্যের কাছ থেকে তথ্য না পাওয়ায় কমিটি সিএজি (CAG)-এর রিপোর্টের তথ্য ব্যবহার করেই তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করেছে। এই রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ ‘মমতার জীবনের বড় রাজনৈতিক ব্লান্ডার’, রাজীব কুমার ইস্যুতে বিস্ফোরক হুমায়ুন কবীর
এদিকে কর্মচারী সংগঠনগুলো শুধু আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বসে নেই। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ জানিয়েছেন, সরকার আইনি পথে সময় বাড়াতে পারে এটা তারা আগেই বুঝেছিলেন। তাই আদালতের লড়াইয়ের পাশাপাশি আন্দোলনও চালানো হবে। সেই কারণে আগামী ১৩ তারিখে রাজ্যজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এখন সবার নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। কমিটির রিপোর্ট সামনে এলে আদালত কী বলে, সেটাই অনেকটাই ঠিক করে দেবে বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) পাওয়ার ভবিষ্যৎ।












