বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের ঠিক আগে হঠাৎ খবর ছড়িয়ে পড়ে কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Srijato Bandyopadhyay) বিরুদ্ধে নাকি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এই খবর সামনে আসতেই অনেকেই ভাবতে শুরু করেন, নির্বাচন কমিশন হয়তো নতুন করে কোনও পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু আসল ঘটনা একটু আলাদা। পুরো বিষয়টা আসলে একটি পুরনো মামলা আর নিয়মমাফিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে ঘিরেই।
শ্রীজাত (Srijato Bandyopadhyay) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে আসল ঘটনা কী?
২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আবহে বুধবার সকাল থেকে আচমকাই খবর ছড়িয়ে পড়ে শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Srijato Bandyopadhyay) বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। মুহূর্তে তা ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক মহলে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই ঘটনার সূত্র অনেক পুরনো। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে শ্রীজাতর একটি কবিতা ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, সেই লেখায় নাকি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে। এরপর কৃষ্ণনগরের একটি আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। পরের মাসেই সেই মামলার শুনানি শুরু হয়।
পরে মামলাটি উচ্চ আদালতে যায় এবং এখনও তা বিচারাধীন। জানা গেছে, আগামী জুন মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা। অর্থাৎ, এটি নতুন কোনও বিষয় নয়, বরং অনেকদিন ধরে চলা একটি মামলা। ভোটের সময় নির্বাচন কমিশন সাধারণভাবে একটি নিয়ম মেনে চলে। যাদের বিরুদ্ধে পুরনো মামলা বা বকেয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকে, সেগুলো দ্রুত কার্যকর করার জন্য পুলিশ ও প্রশাসনকে বলা হয়। এটি কোনও একজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নয়, বরং একসঙ্গে বহু মামলার ক্ষেত্রেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
শ্রীজাতর (Srijato Bandyopadhyay) নামও সেই তালিকায় থাকায় তাঁর বিষয়টি সামনে আসে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, নির্বাচন কমিশন আলাদা করে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিয়েছে। এই নিয়ে বিতর্ক বাড়তেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানানো হয়, শ্রীজাতকে নিয়ে যে গ্রেপ্তারির খবর ছড়িয়েছে তা পুরোপুরি ভুয়ো। কমিশনের এক বিশেষ পর্যবেক্ষক জানান, এ বিষয়ে কোনও আলাদা নির্দেশ দেওয়া হয়নি। প্রয়োজনে কবি নিজেই কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জেনে নিতে পারেন বলেও জানানো হয়। এর আগে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকও সতর্ক করেছিলেন, ভোটের সময় গুজব ছড়াতে পারে এবং তাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হয়। তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির দিকে আঙুল তোলে, আর বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয় এটা পুরোপুরি আদালতের বিষয়, রাজনীতির সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।

আরও পড়ুনঃ কড়কড়ে ৬০০০ টাকা পেতে চান? PM-Kisan-এ নতুন আবেদন শুরু, জানুন পুরো প্রক্রিয়া
অন্যদিকে, সাহিত্য মহলের একাংশও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের বক্তব্য, একজন সৃজনশীল মানুষের স্বাধীনতাকে কোনওভাবে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা ঠিক নয়।
সব মিলিয়ে, শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Srijato Bandyopadhyay) বিরুদ্ধে নতুন করে কোনও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়নি। পুরনো একটি মামলার সূত্রেই তাঁর নাম সামনে এসেছে, আর সেটাকেই ঘিরে ভুল বোঝাবুঝি থেকে এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।












