বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যের শিক্ষা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের নাটকীয় মোড়। ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যাঁরা অবৈধভাবে চাকরি পেয়েছিলেন এবং পরে আদালতের নির্দেশে যাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে, তাঁদের কাছ থেকে বেতন ফেরত নেওয়া নিয়ে বিষয়টি এবার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানা হয়নি, এই অভিযোগে দায়ের হওয়া আদালত অবমাননার মামলার শুনানি আজ, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতি এবং শিক্ষা মহলে চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
কোন বেঞ্চে হচ্ছে এই মামলার (SSC) শুনানি?
দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা এই মামলায় (SSC) সুপ্রিম কোর্ট আগেই কড়া অবস্থান নিয়েছিল। আজকের শুনানি হওয়ার কথা বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি কে. বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চে। আদালত আগেই নির্দেশ দিয়েছিল, অবৈধভাবে নিযুক্ত কর্মীরা চাকরিতে থাকার সময় যে বেতন পেয়েছেন, তা সুদসহ ফেরত দিতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশ বাস্তবে কার্যকর না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। রাজ্য সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বেতন উদ্ধারের কোনও কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় মামলাকারীরা আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করেছে।
আজ যে মামলাগুলি শুনানির তালিকায়
আজকের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের কার্যতালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য মামলাগুলি হল –
- লক্ষ্মী টুঙ্গ বনাম বিনোদ কুমার
ডায়রি নম্বর: ৩৭৫৩/২০২৫ (SLP ১৮৯৭৩/২০২৫)
তালিকাভুক্ত: সিরিয়াল নম্বর ৩১ - সেতাবউদ্দিন বনাম বিনোদ কুমার
ডায়রি নম্বর: ৩৪৯০৯/২০২৫ (Contempt Petition)
তালিকাভুক্ত: সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট (সিরিয়াল ৩২)
মামলাকারীদের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার নামে শুধু প্রশাসনিক চিঠি চালাচালিই হয়েছে। বাস্তবে অবৈধভাবে নিযুক্তদের কাছ থেকে টাকা ফেরত নেওয়ার কোনও স্পষ্ট পদক্ষেপ দেখা যায়নি। উল্লেখযোগ্যভাবে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু করার সময়সীমা থাকলেও, তা মানা হয়নি বলেই অভিযোগ।
আজ কী নির্দেশ দিতে পারে আদালত?
আইন মহলের মতে, যেহেতু এটি আদালত অবমাননার মামলা এবং আগের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ রয়েছে, তাই আজকের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) রাজ্য সরকারকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে। কত দিনের মধ্যে, কোন প্রক্রিয়ায় অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছ থেকে বেতন ও সুদের টাকা ফেরত নেওয়া হবে তা স্পষ্টভাবে জানাতে বলা হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ অবতরণের আগেই ভেঙে পড়ল বিমান, নির্বাচনী সমাবেশে যাওয়ার পথে মৃত্যু মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী-সহ ৩
এমনকি, আদালত (Supreme Court) যদি মনে করে যে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে, তাহলে স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) আধিকারিক কিংবা রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আজকের শুনানির দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন বহু যোগ্য চাকরিপ্রার্থী এবং শিক্ষা মহল।













