বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার পর অবশেষে একাদশ-দ্বাদশের শিক্ষক নিয়োগে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। বুধবার সন্ধ্যাতেই প্রকাশ হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত মেধা তালিকা। এই তালিকাকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আশায় তাকিয়ে রয়েছেন চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা। কারণ এই তালিকার উপরেই নির্ভর করছে পরবর্তী কাউন্সেলিং ও নিয়োগের ভবিষ্যৎ।
কমিশন (SSC) সূত্রে খবর, বুধবার যে মেধা তালিকা প্রকাশিত হবে সেই তালিকায় প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ জন পরীক্ষার্থীর নাম থাকতে পারে। এর মধ্যে শেষ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজারের মতো শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মেরিট লিস্টে নাম থাকা প্রার্থীদের কাউন্সেলিংয়ের জন্য ডাকা হবে। কাউন্সেলিংয়ের পরই শুরু হবে নিয়োগ প্রক্রিয়া। প্রাথমিকভাবে মেরিট লিস্টে থাকা কিছু প্রার্থী সরাসরি নির্বাচিত হবেন, বাকিদের রাখা হবে ওয়েটিং লিস্টে। এরপর ধাপে ধাপে সিট ফিল আপ প্রক্রিয়া চলবে। এই সময় শিক্ষকরা স্কুল পছন্দ করার সুযোগও পাবেন। সবশেষে এসএসসি সুপারিশপত্র ইস্যু করবে এবং তার ভিত্তিতেই মধ্যশিক্ষা পর্ষদ নিয়োগপত্র দেবে।
ডেডলাইন মেনেই তালিকা প্রকাশ (SSC)
উল্লেখ্য, একাদশ-দ্বাদশের মেধা তালিকা প্রকাশের জন্য ২১ তারিখই ছিল এসএসসি-র (SSC) নির্ধারিত ডেডলাইন। সেই ডেডলাইন মেনেই বুধবার তালিকা প্রকাশের পথে কমিশন। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তির মুখ দেখছেন চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা। এই মেধা তালিকাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই একাধিক আইনি লড়াই হয়েছে।
২৬ হাজার চাকরি বাতিলের পর জটিল পথ
প্রসঙ্গত, ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ বাতিল হওয়ার পর পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে ওঠে। নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হলেও সেখানেও একাধিক অভিযোগ ওঠে। নবম-দশমের ক্ষেত্রে দেখা যায়, দাগী প্রার্থীদের নাম মেরিট লিস্টে উঠে এসেছে। আবার কাট-অফ নম্বরের কারণে সুযোগ না পেয়ে রাস্তায় নামেন বহু নবাগত প্রার্থী।
ভেরিফিকেশনের পর ছাঁটাই
একাদশ-দ্বাদশের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশনের জন্য ডাকা হয়েছিল ২০ হাজারের কিছু বেশি পরীক্ষার্থীকে। যাচাই প্রক্রিয়ায় ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে এক হাজারের কিছু বেশি প্রার্থীর নাম বাদ যায়। সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার প্রার্থীর মেধা তালিকা প্রকাশ হতে চলেছে।

রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, আসন্ন নির্বাচনের আগেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা। এই (SSC) সংক্রান্ত মামলা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টে চলছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৩১ অগাস্টের মধ্যে নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ—দুই স্তরের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে। যেহেতু খুব শিগগিরই আদর্শ আচরণবিধি লাগু হতে পারে, তাই তার আগেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে তৎপর রাজ্য সরকার।












