বাংলা হান্ট ডেস্ক : শহর থেকে জেলা—বড় রাস্তায় টোটোর অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণে এবার আরও কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য পরিবহণ দপ্তর (State Transport Department)। স্থানীয় রাস্তায় স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতের জন্য টোটো ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও জাতীয় সড়কে তা চালানো যাবে না। সেই নিষেধাজ্ঞা সঠিকভাবে মানা হচ্ছে কিনা তার জন্য কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত নির্দেশ দেয়া হয়েছে পুলিশদের
টোটো নিয়ে কড়াকড়ি রাজ্য পরিবহণ দপ্তরের (State Transport Department)
টোটোর ব্যবহার নিয়ে কেন্দ্রের নীতিতেই মূলত এই সীমারেখার উল্লেখ রয়েছে। ২০১৪ সালের কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, ই-রিকশার প্রধান উদ্দেশ্য ‘লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি’ অর্থাৎ কোনও যাত্রীকে কাছাকাছি দূরত্বে মূল পরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ করানো। সেই নীতির ভিত্তিতে ২০১৬ সালে রাজ্য পরিবহণ দপ্তর নির্দিষ্ট স্থানীয় রাস্তায় টোটো চালানোর অনুমতি দিয়েছিল। তবে জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথকে সেই অনুমতির বাইরে রাখা হয়।
সমস্যা তৈরি হয়েছে সেই বিধি বাস্তবে কতটা মানা হচ্ছে, তা নিয়ে। পরিবহণ দপ্তরের কাছে আসা বিভিন্ন অভিযোগে দেখা যাচ্ছে, নিষিদ্ধ রাস্তা দিয়েও টোটো চলাচল অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে জিটি রোডের মতো ব্যস্ত রাস্তায় যাত্রী নিয়ে টোটো চলার ছবি সামনে এসেছে। এর জেরে একদিকে যানবাহনের গতি কমছে, অন্যদিকে ব্যস্ত রাস্তায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছেন পরিবহণ দপ্তরের প্রধান সচিব রবি ইন্দর সিং।
জিটি রোডকে নিয়ে আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়ার কারণও রয়েছে। এই রাস্তা রাজ্য সড়কের আওতায় পড়ে। ফলে সেখানে টোটো চালানোর অনুমতি নেই। তা সত্ত্বেও এই রাস্তায় টোটো চলার অভিযোগ রয়েছে। একই নিয়ম বাস চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলির ক্ষেত্রেও কার্যকর করতে চাইছে পরিবহণ দপ্তর। বাসের নির্দিষ্ট রুটে টোটোর দাপট কমিয়ে গণপরিবহণের স্বাভাবিক গতি ফেরানোর লক্ষ্য রয়েছে। নিয়ম না মেনে নিষিদ্ধ পথে টোটো চালানো হলে এবার আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে হতে পারে চালককে।
পরিবহণ দপ্তর জানিয়েছে, মোটর ভেহিকলস অ্যাক্ট, ১৯৮৮ এবং সংশ্লিষ্ট বিধি মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বেআইনি টোটোর পরিবর্তে ই-রিকশা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টোটো নিয়ন্ত্রণের দাবি অবশ্য নতুন নয়। পরিবহণ দপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, আগের সরকারের সময়েও জাতীয় ও রাজ্য সড়কে টোটোর চলাচল নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল বলে দপ্তরের দাবি।

আরও পড়ুন : ‘বাম আমলের বকেয়া DA মেটাবে রাজ্য সরকার’! বিরাট ঘোষণা দিলীপ ঘোষের
উল্লেখ্য, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাসমালিক সংগঠনগুলির কাছ থেকেও একই অভিযোগ বারবার এসেছে। ব্যস্ত রাস্তায় টোটোর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বাস চলাচলে সমস্যা হচ্ছে এবং যানজট বাড়ছে। স্থানীয় যাতায়াতের প্রয়োজন মিটিয়ে টোটোকে নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে রাখা এবং একই সঙ্গে ব্যস্ত সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যেই পরিবহণ দপ্তরের এই পদক্ষেপ।













