বাংলা হান্ট ডেস্ক : প্রকৃতিকে রক্ষা করার লড়াইয়ে বৃক্ষরোপণকে আরও বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনের রূপ দিতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তার সঙ্গে আবেগের বন্ধন তৈরি করতেই ‘এক পেড় মাকে নাম’ বা ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ কর্মসূচি পশ্চিমবঙ্গে চালু হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন সবুজায়ন বাড়ানো হবে, অন্যদিকে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার বার্তাও ছড়িয়ে দেওয়া হবে নতুন প্রজন্মের মধ্যে।
রাজ্য সরকারের (West Bengal Government) নতুন উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০২৪ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবসে এই কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন। এবার সেই ভাবনাকেই বাস্তবায়িত করতে রাজ্যের স্কুলশিক্ষা দফতর ও বন দফতর যৌথভাবে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে। আজ ৫ জুন থেকে কর্মসূচি শুরু হবে এবং আগামী এক বছর ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তা চলবে বলে জানা গিয়েছে। এই বিষয়ে সম্প্রতি রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক, জেলা স্কুল পরিদর্শক এবং নোডাল বিভাগীয় বন আধিকারিকদের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসনের লক্ষ্য, ২০২৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে প্রায় এক কোটি গাছ লাগানো। সেই কারণে এই উদ্যোগকে কোনও এক দিনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, শিক্ষা দফতর এবং বন দফতরের মধ্যে সমন্বয় রেখে পুরো কর্মসূচি বাস্তবায়নের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিভিন্ন ব্লক প্রশাসনের মাধ্যমে স্কুলগুলির কাছে গাছের চারা পৌঁছে দেওয়া হবে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বিদ্যালয় চত্বরে গাছ লাগিয়ে কর্মসূচির সূচনা করা হবে। এরপর ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের পাড়া, গ্রাম বা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় বৃক্ষরোপণে অংশ নিতে পারবে। প্রশাসনের দাবি, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র পরিবেশ দিবস উদ্যাপন নয়। বরং বছরের প্রতিটি সময়ে পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং গাছের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাই এর প্রধান লক্ষ্য।
দমদমের নারায়ণদাস বাঙ্গুর স্কুলের প্রধানশিক্ষক সঞ্জয় বড়ুয়া জানান যে, “প্রতি বছরই তাঁরা পরিবেশ দিবস পালন করেন। কিন্তু, এ বারে সরকার একটু অন্য ভাবে পরিবেশ সচতেনতা বৃদ্ধি করতে চাইছে।” তিনি জানান, এ বছর তাঁদের স্কুলে নাট্যাভিনয়ের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার বার্তা তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং পরিবেশ বিষয়ক মডেল প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : ফ্রি ল্যাপটপের মেসেজ পেয়েছেন? পড়ুয়াদের জন্য কী বলছে সরকার, জানেন
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “পরিবেশকে রক্ষা করতে গাছ লাগানো অবশ্যই প্রয়োজন। তার সঙ্গে মায়ের নাম যুক্ত থাকায় যে সম্মান ও আবেগ জড়িয়ে যায়, তার ফলে পড়ুয়ারা ওই গাছগুলিকে বাঁচানোর চেষ্টাও করবে। তবে এর পাশাপাশি গাছগুলিকে রক্ষা করার জন্য স্কুলগুলিকে কিছু উপকরণ দেওয়া উচিত।” তাঁর মতে, শুধু চারা বিতরণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। গাছের চারপাশে সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং নিয়মিত পরিচর্যার ব্যবস্থাও জরুরি। এই পরিকল্পনা সফল হলে আগামী কয়েক বছরে রাজ্যের সবুজ আচ্ছাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলেও আশা করা হচ্ছে।














