ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের প্রতীক ছিলেন সুভাষচন্দ্র

Published on:

Published on:

Subhas Chandra Bose
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আজ ২৩ জানুয়ারি, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম অগ্নিযুগের নেতা Subhas Chandra Bose-এর ১২৯তম জন্মবার্ষিকী। এই দিনে জাতি স্মরণ করছে সেই বিপ্লবী নেতাকে, যিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নিয়ে ভারতের স্বাধীনতার লড়াইকে নতুন দিশা দিয়েছিলেন।

আপসহীন সংগ্রামের নাম সুভাষচন্দ্র | Subhas Chandra Bose

১৯৩৮ সালের ৭ মার্চ প্রকাশিত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাপ্তাহিক টাইম ম্যাগাজিন-এ নেতাজিকে তৎকালীন ভারতীয় রাজনীতির “সবচেয়ে বড় আকর্ষণ” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, কীভাবে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে ভারতীয় সিভিল সার্ভিসের চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি মহাত্মা গান্ধীর আহ্বানে স্বাধীনতা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

পরাধীনতার অন্ধকার মুছে দিতে প্রাণপ্রণ লড়েছিলেন এই বঙ্গ সন্তান

১৯২১ সালে প্রিন্স অব ওয়েলসের বিরুদ্ধে ‘কালো পতাকা’ বিক্ষোভ থেকেই কলকাতায় ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে নেতাজি বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। একাধিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তাঁকে বারবার কারাবরণ করতে হয় তাঁকে, এমনকি দু’বার কলকাতার মেয়র নির্বাচিত হলেও তাঁর বড় অংশই কেটেছে কারাগারে।

টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কংগ্রেস রাজনীতির ভেতরে আপসহীন ও দৃঢ়চেতা নেতা হিসেবে নেতাজি অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে ওঠেন। ১৯৩৮ সালে তাঁকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়, যা তাঁর জনপ্রিয়তা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি বহন করে।

সভাপতি হওয়ার পরই লন্ডনে সফরে নেতাজি স্পষ্ট ভাষায় ব্রিটিশ শাসনের সমালোচনা করে বলেন,
“ব্রিটেন অর্থনৈতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে ও আধ্যাত্মিকভাবে ভারতকে ধ্বংস করেছে।” তিনি আরও বলেন দেশের স্বাধীনতার জন্য বিদেশের মাটিতে আন্দোলন করতে হবে প্রয়োজনে কারাবরণ করতে হবে। এই বক্তব্য তৎকালীন ব্রিটিশ প্রশাসনের কাছে ছিল অত্যন্ত অস্বস্তিকর কিন্তু নেতাজির জনপ্রিয়তার কারণে তাঁকে গ্রেফতার করার সাহস দেখায়নি ব্রিটিশ প্রশাসন।

আজ নেতাজির জন্মদিবস

১২৯তম জন্মবার্ষিকীতে দাঁড়িয়ে নেতাজির জীবন ও সংগ্রাম আজও তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে। আপসহীন দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান—এই তিনটি মূল্যবোধই নেতাজিকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।

সম্প্রতি সংগ্রাহক পৃথ্বীশ দাশগুপ্ত তাঁর সংগ্রহে যুক্ত করেছেন ১৮৩৭ সালে প্রকাশিত টাইম ম্যাগাজিন-এর একটি বিশেষ সংখ্যা। সংগ্রাহকের মতে, এই বইটি তাঁর সংগ্রহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। কারণ, এই প্রকাশনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারবে সুভাষচন্দ্র বসু কংগ্রেসের নেতৃত্বে থাকাকালীনও অখণ্ড ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবিতে কতটা অনমনীয় ছিলেন।

আরও পড়ুন: DA নয়, এবার হু হু করে বাড়বে এই ভাতাও, সরকারি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

তাঁর অদম্য সাহস, আত্মত্যাগের মানসিকতা এবং আপসহীন নেতৃত্ব তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি ভারতের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক চেতনাবোধে সমৃদ্ধ একজন মহান ব্যক্তিত্ব হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।