বাংলাহান্ট ডেস্ক: আজকের সাফল্যের কাহিনি (Success Story) উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ের এক প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে আদিত্য সিংকে (Aditya Singh) নিয়ে। পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল না, বাবা ছিলেন কৃষক এবং সংসারে অভাব-অনটন ছিল নিত্যসঙ্গী। কিন্তু সেই পরিস্থিতি তাঁর স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে পারেনি। ছোট থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী আদিত্য দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই ঠিক করে ফেলেছিলেন, ভবিষ্যতে ইউপিএসসি (UPSC) সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় বসবেন এবং আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করবেন। তখন অবশ্য ইউপিএসসির সিলেবাস, পরীক্ষার ধরণ বা প্রস্তুতির পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁর খুব বেশি ধারণা ছিল না। লক্ষ্যটা ছিল পরিষ্কার, আর সেই লক্ষ্যেই ধীরে ধীরে এগোতে শুরু করেন তিনি।
আদিত্য সিংয়ের অসাধারণ সফলতার কাহিনি (Success Story):
স্নাতক স্তরে পড়াশোনা করার সময় থেকেই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন আদিত্য। ইউপিএসসির প্রস্তুতির জন্য অনেকেই দিল্লিকে বেছে নেন। তাঁরও ইচ্ছে ছিল রাজধানীতে গিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার। কিন্তু পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তাই নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে প্রয়াগরাজে প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিদিন প্রায় সাত কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে যেতেন তিনি। ক্লাস শেষ হওয়ার পর আবার একই দূরত্ব সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরতেন। যাতায়াতের এই দীর্ঘ পথও তাঁর কাছে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি (Success Story)।
আরও পড়ুন: ‘বন্দে মাতরম’-এর অপমানে কড়া শাস্তি! হতে পারে ৩ বছরের কারাদণ্ড, রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে তৈরি নতুন আইন
প্রতিদিনের জীবন ছিল কঠোর পরিশ্রমে ভরা। ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য নিয়ম করে আট থেকে নয় ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন আদিত্য। শুধু নির্দিষ্ট সময় বই নিয়ে বসে থাকাই নয়, নিজের দুর্বল জায়গাগুলি চিহ্নিত করে সেগুলি দূর করার চেষ্টা করতেন। অর্থের অভাবের কারণে দিল্লির নামী কোচিং বা বড় কোনও পরিকাঠামোর সুবিধা না পেলেও নিজের মতো করে প্রস্তুতি চালিয়ে যান। পরিবারের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে থেকে যতটা সম্ভব সুযোগ তৈরি করে নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর কাছে পরিস্থিতির চেয়ে বড় ছিল লক্ষ্য—একদিন সিভিল সার্ভিসে জায়গা করে নেওয়া।
প্রথমবারের চেষ্টায় অবশ্য সাফল্য আসেনি। ২০২৪ সালে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় প্রথমবার অংশ নিয়েছিলেন আদিত্য। কিন্তু সেই ব্যর্থতা তাঁকে পিছিয়ে দেয়নি। বরং কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা বুঝে পরের চেষ্টার প্রস্তুতিতে আরও জোর দেন। বিশেষ করে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পর পড়াশোনার সময় আরও বাড়িয়ে দেন তিনি। আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ সময় পড়াশোনায় দিতে শুরু করেন। প্রতিদিনের পরিশ্রম, আত্মসংযম এবং নিজের লক্ষ্যের প্রতি স্থির থাকা ধীরে ধীরে তাঁকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দিকে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন: নেতাজির নামে নতুন সেবাকেন্দ্র, কীভাবে উপকৃত হবেন সাধারণ মানুষ? জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় চেষ্টাতেই আসে সেই বহু প্রতীক্ষিত সাফল্য। হিন্দি মাধ্যমে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে ৫০৮তম স্থান অর্জন করেন আদিত্য সিং। কৃষক পরিবারের আর্থিক অনটনের মধ্যে বড় হয়ে ওঠা এক তরুণের কাছে এই সাফল্য (Success Story) শুধু একটি পরীক্ষায় ভালো ফল নয়, বরং দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের মুহূর্ত। সীমিত সুযোগ, প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং প্রথম চেষ্টার ব্যর্থতা—কোনও কিছুই তাঁকে লক্ষ্য থেকে সরাতে পারেনি। নিজের পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের জোরেই শেষ পর্যন্ত আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে গেলেন আজমগড়ের এই তরুণ।













