বাংলাহান্ট ডেস্ক: আজও লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার কাছে আইআইটিতে পড়া এবং সেখান থেকে সফলভাবে (Success Story) পাশ করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া একটি বিরাট স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করেন পরীক্ষার্থীরা। কিন্তু সেই স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান আইআইটি দিল্লিতে ভর্তি হয়েও মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন উত্তরপ্রদেশের তরুণ প্রযুক্তিবিদ আশিস কুমার বর্মা (Ashish Kumar Verma)। অনেকের কাছে এই সিদ্ধান্ত ছিল ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু আশিসের বিশ্বাস ছিল ভিন্ন পথে। সেই বিশ্বাসই তাঁকে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি সংস্থা মাইক্রোসফটে (Microsoft) সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার সুযোগ এনে দিয়েছে। সম্প্রতি নিজের এই অসাধারণ যাত্রার গল্প তিনি লিঙ্কডইনে শেয়ার করেন। তাঁর পোস্ট মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং প্রযুক্তি জগতের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
আশিস কুমার বর্মার অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
প্রযুক্তির প্রতি আশিসের আগ্রহ শুরু হয়েছিল খুব ছোটবেলা থেকেই। নতুন প্রযুক্তি শেখা, সফটওয়্যার তৈরি করা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান খোঁজার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল প্রবল। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ ‘গুগল ডেভেলপার এক্সপার্ট’ হওয়ার স্বীকৃতি অর্জন করেন, যা প্রযুক্তি জগতে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সম্মান হিসেবে বিবেচিত হয়। শুধু তাই নয়, জাপানের ঐতিহ্যবাহী ‘সাকুরা সায়েন্স প্রোগ্রাম’-এর আওতায় একাধিক গবেষণা প্রকল্পে কাজ করার সুযোগও পান তিনি। নিজের তৈরি একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সামনে উপস্থাপনের সুযোগও পেয়েছিলেন আশিস। এত অল্প বয়সে একের পর এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তাঁর প্রতিভার পরিচয় বহন করে (Success Story)।
আরও পড়ুন: ট্রান্সজেন্ডাররাও কি পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা? স্পষ্ট জানালেন মন্ত্রী
লিঙ্কডইনে করা পোস্টে আশিস জানিয়েছেন, আইআইটি দিল্লিতে (IIT Delhi) ভর্তি হওয়ার পর তিনি উপলব্ধি করেন যে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা তাঁর শেখার গতি এবং কাজের ধরণকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারছে না। তাঁর মতে, ক্লাসরুমভিত্তিক তাত্ত্বিক পড়াশোনার তুলনায় বাস্তব প্রযুক্তিগত সমস্যা নিয়ে কাজ করা, নতুন সফটওয়্যার তৈরি করা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি কঠিন হলেও আইআইটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আশিসের দাবি, বর্তমান ইন্টারনেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শুধুমাত্র একটি ডিগ্রিই সাফল্যের একমাত্র চাবিকাঠি নয়। যদি কারও কাছে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতা, নিয়মিত শেখার মানসিকতা এবং শক্তিশালী কাজের পোর্টফোলিও থাকে, তাহলে বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থাও সেই প্রতিভাকে যথাযথ মূল্য দেয়।
মাইক্রোসফটে যোগ দেওয়ার পেছনেও ছিল তাঁর সুস্পষ্ট লক্ষ্য। আশিস জানিয়েছেন, তিনি এমন একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে চেয়েছিলেন, যেখানে বিশ্বের সেরা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের কাছ থেকে সরাসরি শেখার সুযোগ থাকবে। বিশেষ করে সি-শার্প এবং টাইপস্ক্রিপ্টের মতো জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষার নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল। পাশাপাশি মাইক্রোসফট কর্মীদের নতুন প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার স্বাধীনতা, উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনাকে উৎসাহ এবং বাস্তব সমস্যার সমাধান তৈরির সুযোগ দেয় বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এই পরিবেশ একজন তরুণ প্রযুক্তিবিদের দক্ষতা আরও দ্রুত বিকাশে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন: বদলে গেল পুরনো নিয়ম! দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সরকারের
আশিস কুমার বর্মার এই যাত্রা প্রমাণ করে, সাফল্যের (Success Story) পথ সবার জন্য এক নয়। কারও কাছে ডিগ্রি গুরুত্বপূর্ণ, আবার কেউ নিজের দক্ষতা, অধ্যবসায় এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার উপর ভরসা করেও লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আশিসের সাফল্যকে ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবেই দেখা উচিত। কারণ, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিস্থিতি, লক্ষ্য এবং শেখার পদ্ধতি আলাদা। তবুও তাঁর গল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনশীল দুনিয়ায় নিয়মিত শেখার ইচ্ছা, দক্ষতা অর্জনের চেষ্টা এবং নিজের কাজের মানই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে উঠতে পারে। তাই ডিগ্রির পাশাপাশি দক্ষতা গড়ে তোলার গুরুত্ব আজ আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।













