বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইশা খৈতানের (Isha Khaitan) সফল (Success Story) উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পটা শুরু হয়েছিল খুব অল্প বয়সেই। লুধিয়ানার (Ludhiana) এই তরুণী যখন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী, তখনই মাত্র ১৬ বছর বয়সে নিজের হাতে ছোট ছোট ব্যবসায়িক উদ্যোগ শুরু করেন। কখনও প্রতিকৃতি আঁকতেন, কখনও উপহার সামগ্রী বিক্রি করতেন, আবার কখনও পোশাকের ড্রপশিপিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কোভিডের সময় স্থানীয় ক্যাফেতে নিজের আঁকা ছবি নিয়ে প্রদর্শনীও করেন। এই কাজগুলো থেকেই মাসে প্রায় ৬০-৭০ হাজার টাকা আয় করতে শুরু করেন তিনি। সেই সময়ের অভিজ্ঞতাই ইশাকে আরও বড় কিছু করার আত্মবিশ্বাস দেয় এবং ধীরে ধীরে নিজের ব্র্যান্ড তৈরির স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন।
ইশা খৈতানের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
এরপর লুধিয়ানার এনআইএফ-এ ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন ইশা। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের কাজও চালিয়ে যান তিনি। ২০২৩ সালের ভ্যালেন্টাইন্স ডে-কে কেন্দ্র করে কাস্টমাইজড পোশাকের অর্ডার নেওয়া শুরু করেন। সেই কাজকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে একটি আলাদা ইনস্টাগ্রাম পেজ তৈরি করেন। শুরুটা খুব বড় ছিল না, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। এক জনপ্রিয় মেকআপ আর্টিস্ট ইশার তৈরি পণ্যের প্রশংসা করার পর তাঁর কাছে একের পর এক অর্ডার আসতে শুরু করে। এরপর গ্রাহকদের মুখে মুখে তাঁর কাজের কথা ছড়িয়ে পড়ে এবং ‘কাস্টম বাই ইশনাম’ ধীরে ধীরে নিজের পরিচিতি তৈরি করতে থাকে (Success Story)।
আরও পড়ুন:চলতি বছরেও নোবেল শান্তি পুরস্কার পাবেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প! নেপথ্যে কোন কারণ?
ইশার এই ব্যবসার পিছনে পরিবারের সহযোগিতারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁর পরিবারের আগে থেকেই পোশাক রপ্তানির ব্যবসা এবং নিজস্ব কারখানা থাকায় শুরুর দিকে উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তিনি সহজেই পেয়েছিলেন। তবে শুধু পরিবারের ব্যবসার সুবিধা নিয়েই থেমে থাকেননি ইশা। নিজে হাতে কাজ শিখেছেন এবং পোশাক তৈরির বিভিন্ন ধাপের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়েছেন। কাটিং থেকে শুরু করে এমব্রয়ডারি এবং সেলাই—প্রতিটি কাজের খুঁটিনাটি বোঝার চেষ্টা করেছেন। ফলে গ্রাহকের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক তৈরি করার ক্ষেত্রে নিজের সৃজনশীলতা ও দক্ষতা কাজে লাগাতে পারছেন তিনি।
বর্তমানে ‘কাস্টম বাই ইশনাম’ মূলত গ্রাহকের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের কাস্টমাইজড পোশাক তৈরি করে। টি-শার্ট, সোয়েটশার্ট, অ্যাপ্রন-সহ একাধিক পোশাকে থাকে বিশেষ ডিজাইন ও সূচিকর্মের কাজ। লুধিয়ানা থেকে শুরু হওয়া এই ব্র্যান্ড এখন শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ নেই। দুবাই এবং যুক্তরাজ্যেও পৌঁছে গিয়েছে ইশার তৈরি পোশাক। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সংস্থার বার্ষিক রাজস্ব প্রায় ৬০ লক্ষ থেকে ৯৬ লক্ষ টাকার মধ্যে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে। আগামী দিনে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং স্কুলের জন্য ইউনিফর্ম তৈরির ব্যবসাতেও নিজেদের পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে ইশার।

আরও পড়ুন: ‘তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ’, ইউক্রেনের সঙ্গে সংঘাত থামানোর ক্ষেত্রে মোদীর উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা পুতিনের
নিজের সাফল্যের (Success Story) পিছনে সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ইশা। তবে এই কাজের জন্য কোনও বাইরের এজেন্সির উপর নির্ভর করেননি তিনি। নিজের ব্র্যান্ডের কনটেন্ট নিজেই তৈরি করেন, ছবি বা ভিডিও শুট করেন, পোস্ট করেন এবং ইনস্টাগ্রাম পেজের অন্যান্য ব্যবস্থাপনাও নিজের হাতেই সামলান। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ছোট ছোট উদ্যোগ দিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, কয়েক বছরের মধ্যেই তা একটি পরিচিত কাস্টমাইজড পোশাকের ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসা চালিয়ে অভিজ্ঞতা সঞ্চয়, পরিবারের সহায়তা এবং নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ইশা খৈতান দেখিয়েছেন, বয়স কম হলেও সঠিক পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক পরিশ্রম থাকলে নিজের পরিচিতি তৈরি করা সম্ভব।













