বাংলাহান্ট ডেস্ক: নোবেল শান্তি পুরস্কার (Nobel Peace Prize) ঘোষণার আগে ফের আলোচনার কেন্দ্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। রয়টার্সের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ট্রাম্পের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন একাধিক বিশেষজ্ঞ। তাঁদের মতে, ইরানকে ঘিরে আমেরিকার সামরিক সংঘাত এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণে এবার নোবেল কমিটি তাঁকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। আগামী ৯ অক্টোবর ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
চলতি বছরেও নোবেল শান্তি পুরস্কার (Nobel Peace Prize) পাবেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প?
এবারের নোবেলকে (Nobel Peace Prize) ঘিরে জল্পনার অন্যতম কারণ গত বছরের ঘটনাও। ২০২৫ সালে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় মাচাদো তাঁর নোবেল পদকটি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেন। পরে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি স্পষ্ট করে জানায়, পদক দেওয়া হলেও পুরস্কারের স্বীকৃতি মাচাদোর সঙ্গেই যুক্ত থাকবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার সম্ভাব্য বিজয়ীকে নিয়ে ট্রাম্পের প্রভাব বা চাপের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আরও পড়ুন:ফ্লাইদুবাই কাণ্ডে যুক্ত ইরান? প্রমাণ মিললেই ভয়ঙ্কর হামলার হুঁশিয়ার দিলেন ট্রাম্প
রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, সম্ভাব্য নামের আলোচনায় পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা ICC, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত বা ICJ এবং রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজের মতো নাম উঠে আসছে। তবে এগুলির কোনওটিকেই নোবেল কমিটির চূড়ান্ত তালিকা হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বেছে নেওয়া হলে, যিনি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সঙ্গে মতবিরোধে রয়েছেন, তাঁর উপর পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই কমিটির সামনে পছন্দের বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এই প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক আদালতগুলিকে ঘিরে ওয়াশিংটনের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক ও আধিকারিকদের বিরুদ্ধে একাধিক দফায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং আদালটির সঙ্গে সংঘাতও বেড়েছে। অন্যদিকে, ICJ-র ক্ষেত্রেও মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কোনও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেওয়া হলে সেটির রাজনৈতিক তাৎপর্য তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে শেষ পর্যন্ত কমিটি কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন:‘তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ’, ইউক্রেনের সঙ্গে সংঘাত থামানোর ক্ষেত্রে মোদীর উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা পুতিনের
ট্রাম্পের নাম নিয়েও অবশ্য আলোচনা একেবারে থেমে নেই। বিভিন্ন দেশ ও ব্যক্তি তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের (Nobel Peace Prize) জন্য মনোনীত করলেও, মনোনয়ন পাওয়া মানেই পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা নিশ্চিত নয়। রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার কমিটির সামনে শুধু সম্ভাব্য প্রার্থীর কাজ নয়, পুরস্কার ঘোষণার পর তার আন্তর্জাতিক প্রভাবও বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। পোপ লিও ইতিমধ্যেই যুদ্ধের অবসান এবং আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত মেটানোর পক্ষে একাধিকবার বক্তব্য রেখেছেন। ফলে ৯ অক্টোবরের ঘোষণার আগে ট্রাম্প, আন্তর্জাতিক আদালত, পোপ লিও এবং অন্যান্য সম্ভাব্য নামকে ঘিরে জল্পনা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।













