বাংলা হান্ট ডেস্ক: সফলভাবে (Success Story) স্বপ্নপূরণের পথে বাধা এসেছে বারবার, কখনও ব্যর্থতা, কখনও শারীরিক অসুস্থতা, আবার কখনও একাকিত্বের সঙ্গে লড়াই। কিন্তু কোনও কিছুই লক্ষ্য থেকে সরাতে পারেনি ভোপালের (Bhopal) পল্লবী মিশ্রকে (Pallavi Mishra)। শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রতি গভীর ভালোবাসা আর কঠোর অধ্যবসায়কে সঙ্গী করেই শেষ পর্যন্ত সিভিল সার্ভিসে নিজের জায়গা করে নেন তিনি। কোনও কোচিং প্রতিষ্ঠানের সাহায্য ছাড়াই বাড়িতে বসে প্রস্তুতি নিয়ে ২০২২ সালের UPSC পরীক্ষায় সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় ৭৩ নম্বর স্থান অর্জন করেন পল্লবী। তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে, সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত অনুশীলন এবং নিজের উপর বিশ্বাস থাকলে কঠিন লক্ষ্যও ছুঁয়ে ফেলা সম্ভব।
পল্লবী মিশ্রের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
ছোটবেলা থেকেই হারমোনিয়াম ও শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রতি আগ্রহ ছিল পল্লবীর। তাঁর মা-ই প্রথম সংগীতের প্রতি সেই ভালোবাসা তৈরি করে দিয়েছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আগ্রহ পরিণত হয় পেশাদার দক্ষতায়। শাস্ত্রীয় সংগীতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি এই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও অর্জন করেন তিনি। তবে সংগীতের জগতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি পল্লবী। আইন নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে কর্পোরেট আইনজীবী হিসেবে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারীর সময় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু করেন। তখনই সরকারি প্রশাসনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই লক্ষ্য পূরণে শুরু হয় UPSC-র প্রস্তুতি (Success Story)।
আরও পড়ুন: আচমকাই লাইনচ্যুত যাত্রীবোঝাই ট্রেন! ছিটকে গেল ১৪ টি কামরা, পাকিস্তানে ভয়াবহ দুর্ঘটনা
প্রস্তুতির ক্ষেত্রে পল্লবী কোনও কোচিংয়ের উপর নির্ভর করেননি। নিজের মতো করে পড়াশোনার পরিকল্পনা তৈরি করেন এবং পরীক্ষার ধরন বুঝতে প্রয়োজনীয় বই, টেস্ট সিরিজ ও উত্তর লেখার কৌশল নিয়ে বিস্তারিত পড়াশোনা করেন। তাঁর ভাই একজন আইপিএস আধিকারিক। প্রস্তুতির সময় ভাইয়ের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা তাঁকে সাহায্য করেছিল। প্রিলিমসের প্রস্তুতি আরও মজবুত করতে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার বহুনির্বাচনী প্রশ্ন সমাধান করেন তিনি। অন্যদিকে, মেইনসের জন্য সিলেবাস ধরে পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত উত্তর লেখার অনুশীলন চালিয়ে যান। প্রতিদিন মক টেস্ট দেওয়া, নিজের ভুল চিহ্নিত করা এবং সফল পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র বিশ্লেষণ করা ছিল তাঁর প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে পল্লবীর এই যাত্রা মোটেই মসৃণ ছিল না। প্রথম প্রচেষ্টায় সফল হতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয়বারের প্রস্তুতির সময়ও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। মেইনস পরীক্ষার ঠিক আগে পিঠে গুরুতর চোট পান পল্লবী। দীর্ঘক্ষণ বসে লেখা তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছিল। পরীক্ষার প্রস্তুতির চাপের সঙ্গে যোগ হয়েছিল শারীরিক যন্ত্রণা এবং একা লড়াই করার মানসিক ক্লান্তি। তবু হাল ছাড়েননি তিনি। শরীরচর্চা, গান শোনা এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে মানসিক চাপ সামলানোর চেষ্টা করেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যান। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাওয়াই হয়ে ওঠে তাঁর মূলমন্ত্র।

আরও পড়ুন: মেগা পরিকল্পনা আদানির! এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি ধারাভির ভোল পাল্টে হবে হাউজিং কমপ্লেক্স
অবশেষে ২০২২ সালে দ্বিতীয় প্রচেষ্টাতেই আসে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। UPSC-তে AIR ৭৩ অর্জন করে আইএএস হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেন পল্লবী মিশ্র। সংগীতের সাধনা থেকে প্রশাসনিক জীবনে প্রবেশ—তাঁর এই যাত্রা দেখিয়ে দেয়, জীবনের একাধিক আগ্রহকে সঙ্গে নিয়েও নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া যায়। পল্লবীর অভিজ্ঞতায় ব্যর্থতা বা হতাশা কোনও চূড়ান্ত পরিণতি নয়; বরং সেগুলি থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে চেষ্টা করাই আসল। তাঁর কাহিনি UPSC-র প্রস্তুতি নেওয়া বহু তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণা হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা কোচিংয়ের সুযোগ না পেয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন, তাঁদের জন্য পল্লবীর সাফল্য (Success Story) মনে করিয়ে দেয়—পরিকল্পিত স্ব-অধ্যয়ন, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাসও লক্ষ্যে পৌঁছনোর পথ তৈরি করতে পারে।














