বাংলাহান্ট ডেস্ক: মুম্বইয়ের (Mumbai) বুকে কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা ধারাভির (Dharavi) পরিচিত ছবি এবার বদলানোর পথে। এশিয়ার বৃহত্তম বসতি এলাকাগুলির অন্যতম ধারাভিকে নতুন করে সাজিয়ে তুলতে বড়সড় পুনর্গঠন দায়িত্ব নিয়েছে গৌতম আদানির সংস্থা (Adani Group) আদানি এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে যুক্ত ‘আদানি নবভারত ডেভেলপার্স প্রাইভেট লিমিটেড’। সোমবার থেকেই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধারাভিতে তৈরি হবে ১০টি বহুতল টাওয়ার। সেখানে আবাসনের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও শিল্পক্ষেত্রের জন্যও জায়গা রাখা হবে। দীর্ঘদিন ধরে ঘনবসতি, অপর্যাপ্ত পরিকাঠামো এবং বাসস্থানের নানা সমস্যার সঙ্গে লড়াই করা এই এলাকার ভবিষ্যৎ কীভাবে বদলায়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
এশিয়ার বৃহত্তম বস্তি ধারাভির ভোল পাল্টে হাউজিং কমপ্লেক্স বানানোর পরিকল্পনা আদানি গ্রুপের (Adani Group)
প্রস্তাবিত প্রকল্পে মোট ১০,৪৩২টি অ্যাপার্টমেন্ট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি গড়ে তোলা হবে ১,৩৭৯টি বাণিজ্যিক ও শিল্প ইউনিট। অর্থাৎ, শুধু আবাসন নির্মাণ নয়, ধারাভির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকেও নতুন কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি টাওয়ারে ৩৭ থেকে ৩৯টি তলা থাকবে বলে জানানো হয়েছে। বাসিন্দাদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য প্রতিটি বহুতলে ১০ থেকে ১২টি যাত্রীবাহী লিফট রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্পের এই বিপুল পরিসর থেকেই স্পষ্ট, ধারাভির দীর্ঘদিনের চেনা পরিকাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কাজ কত দিনে শেষ হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত সময়সীমা এখনও স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন: বিরোধীদের আন্দোলনের আবহেই দেশের এই রাজ্যের পুরভোটে বিজেপির দাপট! অনেক পিছিয়ে কংগ্রেস
ধারাভির পুনর্গঠন নিয়ে আদানি গোষ্ঠীর তরফে বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। আদানি এন্টারপ্রাইজের ডিরেক্টর প্রণব আদানির বক্তব্য, ধারাভির প্রতিটি পরিবারেরই এমন একটি বাড়ি প্রাপ্য, যেখানে তারা নিরাপদে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারবেন। তাঁর মতে, পরিবারগুলির প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখেই নতুন এলাকা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নতুন বাড়িতে প্রতিটি পরিবার প্রায় ৩৫০ বর্গফুট জায়গা পাবে বলে জানানো হয়েছে। এই আবাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বহু পরিবারের বসবাসের পরিবেশে পরিবর্তন আসতে পারে। পাশাপাশি শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ এবং পরিবারের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টিও প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বইয়ের কেন্দ্রস্থলে প্রায় ৬২০ একর জমি জুড়ে বিস্তৃত ধারাভিতে আনুমানিক ১০ থেকে ১২ লক্ষ মানুষের বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকা শুধু আবাসস্থল হিসেবেই নয়, ক্ষুদ্র শিল্প ও ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। চামড়ার কাজ, পোশাক তৈরি, মৃৎশিল্প, পুনর্ব্যবহারযোগ্য সামগ্রীর ব্যবসা-সহ নানা ধরনের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষ ধারাভির অর্থনীতিকে সচল রেখেছেন। সেই কারণে এই এলাকার পুনর্গঠন কেবল বহুতল নির্মাণের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাসিন্দাদের জীবিকা, ব্যবসার ধারাবাহিকতা এবং সামাজিক পরিকাঠামোর প্রশ্নও। নতুন পরিকল্পনায় আবাসনের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ও শিল্প ইউনিট রাখার বিষয়টি সেই অর্থনৈতিক বাস্তবতার দিকেও ইঙ্গিত করে।

আরও পড়ুন: বড় সিদ্ধান্ত মোদী সরকারের! দীপাবলি পর্যন্ত UPI লেনদেনে কার্যকর হচ্ছে না MDR
তবে ধারাভির পুনর্গঠন প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকার বর্তমান বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের জীবনে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা নির্ভর করবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন পদ্ধতির উপর। নতুন আবাসন তৈরি, পরিকাঠামোর উন্নতি এবং নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবিকা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বহু বছর ধরে গড়ে ওঠা ধারাভির সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। আদানি গোষ্ঠীর এই প্রকল্প মুম্বইয়ের নগরোন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে। তবে ধারাভির চেনা ছবি কতটা বদলাবে, আর সেই পরিবর্তনের সুফল কতটা পৌঁছবে সাধারণ বাসিন্দাদের কাছে, তার উত্তর মিলবে প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই।














