চাকরি ছেড়ে ব্যবসায় ব্যর্থতা! অবশেষে চাষাবাদেই বার্ষিক ৩০ লক্ষের আয়, অবাক করবে রমেশের কাহিনি

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: প্রত্যেক সফলতার নেপথ্যেই থাকে অদম্য জেদ এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের কঠিন লড়াই। সেই লড়াই পেরিয়েই তৈরি হয় অনবদ্য সাফল্যের কাহিনি (Success Story)। বর্তমান প্রতিবেদনে আমরা ঠিক সেইরকমই এক সফল ব্যক্তিত্বের প্রসঙ্গ উপস্থাপিত করব। মূলত, আজ আমরা জানাবো তেলেঙ্গানার জহিরাবাদের বাসিন্দা রমেশ রেড্ডির (Ramesh Reddy) বিষয়ে। যিনি কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর এবং তাঁর ইমেল মার্কেটিং ব্যবসা ভেস্তে যাওয়ার পরে কৃষিকাজে মনোনিবেশ করেন। এটাই তাঁর ভাগ্য বদলে দেয়। তিনি প্রচলিত ফসল থেকে সরে এসে উচ্চমূল্যের বিদেশি ফসল চাষ শুরু করেন। ২০১৬ সালে, রমেশ তাঁর উদ্যোগ, ‘বিএনআর এক্সোটিকস’ (BNR Exotics) প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে, তিনি ৭ একর জমিতে লাল, সাদা ও হলুদ ড্রাগন ফলের পাশাপাশি চিয়া বীজ, কিনোয়া এবং লংগান (ড্রাগন আই) চাষ করেন। তিনি সরাসরি বাজারে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে বছরে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা আয় করেন।

চাষাবাদেই বাজিমাত (Success Story) করলেন রমেশ রেড্ডি:

ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে তিনি কৃষিকাজ শুরু করেন: রমেশ রেড্ডি তেলেঙ্গানার জহিরাবাদে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। নিউজিল্যান্ড থেকে বি.ফার্মা এবং এমবিএ সম্পন্ন করার পর তিনি একটি কর্পোরেট চাকরিতে যোগ দেন। এরপর তিনি ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে কাজ করার জন্য সেই চাকরি ছেড়ে দেন। ২০১৮ সালে তিনি ‘অপটিক গ্লোবাল টেকনোলজিস’ নামে নিজের একটি ইমেল মার্কেটিং কোম্পানি শুরু করেন। তবে, ২০২১ সালে জিমেইল এবং ইয়াহুর নতুন পলিসির কারণে তাঁর ব্যবসাকে প্রভাবিত হয়। যার ফলে তিনি কোম্পানিটি বন্ধ করতে বাধ্য হন। ২০১৪-১৫ সালে রমেশ আমদানি করা ড্রাগন ফলের রস পান করেন। যা এই বিরল ফলটির প্রতি তাঁর আগ্রহ জাগিয়ে তোলে। তিনি ২০১৬ সালে ২ লক্ষ টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগে তাঁর পারিবারিক দুই একর জমিতে ড্রাগন ফলের গাছ লাগানো শুরু করেন। ক্রমশ তিনি কৃষিকাজকে তাঁর প্রধান পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন।

Success Story of Ramesh Reddy.

বিভিন্ন ফসলের চাষ: জানিয়ে রাখি যে, তুলা ও আখের মতো প্রচলিত ফসলের অতিরিক্ত সরবরাহ এবং দাম কমে যাওয়ার সমস্যা মোকাবিলা করতে রমেশ একটি সমাধান খুঁজে বের করেন। তিনি তাঁর ৭ একরের জমিতে ১৬,০০০ ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করেন। ড্রাগন ফলের চাষের জন্য তিনি জমিতে ২,০০০ এলইডি বাল্ব স্থাপন করেন। এগুলি সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু করে রাতে ৫ ঘণ্টা কৃত্রিম আলো সরবরাহ করে। এই আলো গাছগুলিকে উষ্ণতা দেয়। যার ফলে শীতকালেও গাছগুলিতে ফল ধরে। এছাড়াও, জমির আরও ভালো ব্যবহারের জন্য তিনি ড্রাগন ফলের সারির মাঝে চিয়া সিডসের ইন্টার-ক্রপিং শুরু করেন। রমেশ তাঁর জমিতে কিনোয়া ও লংগানও (ড্রাগন আই) রোপণ করছেন এবং এই চাষগুলি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন।

আরও পড়ুন: ১৪ গুণ বাড়ল রফতানি! বিশ্বজুড়ে ভারতীয় বৈদ্যুতিক গাড়ির জয়জয়কার

গ্রহণ করেন এই মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি: উল্লেখ্য যে, প্রথম দিকে হায়দরাবাদে লাল ড্রাগন ফলের চাহিদা কম ছিল। মানুষ এই সম্পর্কে তেমন কিছু জানতেন না। এর ফলে রমেশ মুম্বাইয়ের পাইকারি বাজারের দিকে ঝোঁকেন। যেখানে তিনি ভালো দাম পান। সরবরাহ বেশি থাকার সময়ে দাম কমে যাওয়া এড়াতে, তিনি ২৪ টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি ৪৫০ বর্গফুটের কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করেন। এর ফলে তিনি ফসল ১০-১৫ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পারেন। চাহিদা বাড়লে তিনি তা ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করেন। চিয়া সিডের ক্ষেত্রেও তিনি মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করেন না। এর ফলে প্রতি কেজি ২৫০ টাকার প্রিমিয়াম রেটে সরাসরি ড্রাই ফ্রুটস স্টোর ও হোম-বেসড অর্গানিক বিজনেসে সরবরাহ করেন।

আরও পড়ুন: ৫ বছরেই ৪ গুণ বৃদ্ধি, ভারতে হু হু করে বাড়ছে ধনকুবের! চমকে দেবে দেশের মোট বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা

হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা আয়: শুরুতে যেখানে ড্রাগন ফলের উৎপাদন একর প্রতি ২ টন ছিল, এখন তা বেড়ে একর প্রতি গড়ে ১৫ টন হয়েছে। খরচ বাদ দিলে ড্রাগন ফল থেকে একর প্রতি ২ লক্ষ থেকে ৪ লক্ষ টাকা নিট লাভ হয়। একইসঙ্গে, ৪ মাসের চিয়া সিডের ফসল থেকে তিনি একর প্রতি প্রায় ৮০,০০০ টাকা লাভ করছেন রমেশ। বর্তমানে, বিএনআর এক্সোটিকস ড্রাগন ফল থেকে প্রায় ২৮ লক্ষ টাকা এবং চিয়া সিড থেকে ২ লক্ষ টাকা রেভিনিউ অর্জন করে। এর ফলে রমেশের মোট বার্ষিক আয় ৩০ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে। রমেশের লক্ষ্য হল, অন্যান্য কৃষকদের কাছে এটা তুলে ধরা যে, সঠিক ফসল নির্বাচন এবং আধুনিক মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির অবলম্বনের মাধ্যমে কৃষিকাজ একটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা হতে পারে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার লক্ষ্য কখনোই শুধু একটি সফল ফার্ম গড়ে তোলা ছিল না। আমি কৃষকদের দেখাতে চেয়েছিলাম যে, তাঁদের কেবল তুলো ও আখের মতো ফসলের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। বাজারে প্রবল চাহিদা রয়েছে এমন বিদেশি ফসল বেছে নিয়ে তাঁরা আরও অনেক ভালো আয় করতে পারেন।’ এমতাবস্থায়, রমেশ কৃষকদের কাছে এক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন।