বাগদানের আংটি খুঁজতে গিয়ে মিলল ব্যবসার আইডিয়া, ৩ লক্ষে শুরু করে আজ ২০ কোটি টাকার সংস্থা গড়লেন সঞ্জনা

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: মাত্র ৩ লক্ষ টাকা হাতে নিয়ে নিজের শোবার ঘর থেকে যে ব্যবসার শুরু, কয়েক বছরের মধ্যেই সেই সংস্থার বার্ষিক রাজস্ব পৌঁছে গেল ২০ কোটি টাকায়। অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) বিজয়ওয়াড়ার বাসিন্দা সঞ্জনা ত্রিপুরামল্লুর এই সাফল্যের গল্প (Success Story) এখন অনেক তরুণ উদ্যোক্তার কাছেই অনুপ্রেরণার। আহমেদাবাদের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডিজাইনের স্নাতক সঞ্জনা বর্তমানে বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক ‘কসমস ডায়মন্ডস’-এর প্রতিষ্ঠাতা। ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ডের গয়না নিয়ে তৈরি এই সংস্থা ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রায় ২০ কোটি টাকা রাজস্ব করেছে। অনলাইন বিক্রির অংশই ছিল মোট ব্যবসার প্রায় ৩৫ শতাংশ।

সঞ্জনা ত্রিপুরামল্লুর অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

তবে এই ব্যবসার ভাবনা হঠাৎ করে আসেনি। সঞ্জনা প্রথমে স্যামসাংয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ২০২০ সালে নিজের বাগদানের জন্য তিনি নীল-সবুজ রঙের একটি হীরের আংটি খুঁজছিলেন। সেই সময় হীরা কিনতে গিয়ে দাম এবং বাজারের স্বচ্ছতা নিয়ে তাঁর মনে একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে আরও খোঁজ করতে গিয়ে তিনি খনি থেকে উত্তোলিত হীরের ব্যবসা, তার সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে জানতে পারেন। তখনই তাঁর নজরে আসে ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ড। প্রাকৃতিক হীরের রাসায়নিক ও ভৌত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এই বিকল্প তাঁকে আগ্রহী করে তোলে। শেষ পর্যন্ত গুজরাটের নির্মাতাদের সাহায্যে নিজের পছন্দের আংটিও তৈরি করিয়ে নেন তিনি। পরে বন্ধু ও পরিচিতদের মধ্যে সেই আংটির প্রতি আগ্রহ বাড়তেই ব্যবসার সম্ভাবনা দেখতে পান সঞ্জনা (Success Story)।

আরও পড়ুন: যুদ্ধোত্তর ইটালিতে ১৪১৩ দিন প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে, ইতিহাস গড়লেন মেলোনি! উষ্ণ অভিনন্দন মোদির

২০২১ সালে মাত্র ৩ লক্ষ টাকা প্রাথমিক মূলধন নিয়ে কসমস ডায়মন্ডসের পথচলা শুরু। কোনও বড় অফিস নয়, নিজের শোবার ঘর থেকেই কাজ শুরু করেছিলেন সঞ্জনা। প্রথমদিকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমেই সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। কিন্তু তখন ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ড সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে যথেষ্ট ভুল ধারণা ছিল। অনেকেই এগুলিকে ‘নকল হীরা’ বলে মনে করতেন। এমনকি গয়নার কারিগরদের একাংশও এই ধরনের পাথর নিয়ে কাজ করতে চাইতেন না। এই অভিজ্ঞতা সঞ্জনাকে বুঝিয়ে দেয়, শুধু গয়না বিক্রি করলেই হবে না, ক্রেতাদেরও বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। তাই তিনি ইউটিউবে ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ড নিয়ে তথ্যভিত্তিক ভিডিও তৈরি শুরু করেন। সেই ভিডিওগুলির কয়েকটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে যায়। ২০২৩ সালে বিজয়ওয়াড়ায় প্রথম ফিজিক্যাল স্টোর খোলার পর ব্যবসা আরও গতি পায় এবং প্রথম মাস থেকেই লাভের মুখ দেখে সংস্থাটি (Success Story)।

ব্যবসার পাশাপাশি ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ডের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও কসমস ডায়মন্ডস আলাদা জায়গা তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে সংস্থার একটি ১৬.১৬ ক্যারেটের পদ্মফুল আকৃতির ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ড স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের বিক্রম-১ রকেট মিশনের সঙ্গে মহাকাশে পাঠানো হয়। পরীক্ষাটির উদ্দেশ্য ছিল চরম পরিস্থিতিতে হীরের স্থায়িত্ব ও শক্তি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা। এই ঘটনাকে সংস্থার অন্যতম উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে দেখা হয়। শুরুতে যে পণ্যকে অনেকে ‘নকল’ বলে সন্দেহ করতেন, সেটিই পরে এমন একটি প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষার অংশ হয়ে ওঠে (Success Story)।

Success Story of Sanjana Tripuramallu will amaze you.

আরও পড়ুন: একবার বিনিয়োগেই মাসে মাসে আসবে টাকা! পোস্ট অফিসের এই স্কিমে বাম্পার রিটার্ন, সহজ হিসাব বুঝুন

বর্তমানে কসমস ডায়মন্ডস ৫,০০০ টাকা থেকে শুরু করে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দামের IGI-প্রত্যয়িত গয়না তৈরি ও বিক্রি করে। সংস্থার নকশায় ভারতীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক রুচির মেলবন্ধন দেখা যায়। ২৫ জনের দল, চারটি বিশেষায়িত উৎপাদন ইউনিট এবং বেঙ্গালুরুর একটি এক্সপেরিয়েন্স স্টোর নিয়ে ব্যবসা এখন আরও বড় করার পরিকল্পনা চলছে। গ্রাহকদের আস্থা বাড়াতে সংস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতি হল ১০০ শতাংশ বাইব্যাক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে পুরনো গয়না বদলে নতুন গয়না নেওয়ার সুযোগ থাকে। আগামী দিনে হায়দ্রাবাদে নতুন স্টোর খোলার পাশাপাশি তিনটি নতুন কালেকশন বাজারে আনার প্রস্তুতিও চলছে। শূন্য থেকে শুরু করে কয়েক বছরের মধ্যে ২০ কোটির ব্যবসা দাঁড় করানো সঞ্জনার এই যাত্রা দেখিয়ে দিয়েছে, একটি ব্যক্তিগত প্রয়োজন থেকেও কখনও কখনও তৈরি হয়ে যেতে পারে বড় ব্যবসার সুযোগ (Success Story)।