বাবা করতেন কামারের কাজ! অপমান সহ্য করেই UPSC-তে সফল, IAS হয়ে জবাব দিলেন স্মিত পাঞ্চাল

Published on:

Published on:

Success Story of Smit Panchal will surprise you.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: লোহার কাজ করেই সংসার চালাতেন বাবা। আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল না, পরিবারের মধ্যেও কেউ সিভিল সার্ভিসে ছিলেন না। সেই পরিবার থেকেই উঠে এসে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় সাফল্য (Success Story) পেলেন গুজরাটের (Gujarat) স্মিত পাঞ্চাল (Smit Panchal)। সর্বভারতীয় স্তরে ৩০তম স্থান অর্জন করে আইএএস অফিসার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছেন তিনি। তবে এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ লড়াই, অর্থকষ্ট, মানুষের তাচ্ছিল্য এবং নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকার গল্প। সাফল্যের পর স্মিতের কথায়, তাঁর সবচেয়ে বড় ইচ্ছা ছিল বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা হলেও দূর করা।

স্মিত পাঞ্চালের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

২০১৭ সালে দশম শ্রেণির পরীক্ষা দেওয়ার পরই জীবনের লক্ষ্য ঠিক করে ফেলেছিলেন স্মিত। স্থানীয় একটি সরকারি দফতরে গিয়ে জেলাশাসক বা কালেক্টরের কাজ কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনে একজন আধিকারিক কীভাবে পরিবর্তন আনতে পারেন, তা তাঁকে গভীর ভাবে অনুপ্রাণিত করে। তখনই ঠিক করেন, ভবিষ্যতে তিনিও আইএএস অফিসার হবেন। নিজের স্বপ্নের পাশাপাশি বাবার কঠিন জীবন বদলে দেওয়ার ইচ্ছাও ছিল তাঁর মনে। সেই লক্ষ্যেই একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে আর্টস নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক হন এবং কলেজে প্রথম স্থান অর্জন করেন (Success Story)।

আরও পড়ুন: পুরনো পেনশন নিয়ে কেন্দ্রের বড় বার্তা! সরকারি কর্মীদের জন্য কী সিদ্ধান্ত?

তবে স্বপ্নের পথে এগোনো মোটেই সহজ ছিল না। আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতদের মধ্যে কোনও সিভিল সার্ভিস অফিসার না থাকায় প্রস্তুতির সঠিক দিশা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। তার উপর ছিল অর্থের সমস্যা। ২০২২ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে দিল্লিতে পাড়ি দেন স্মিত। প্রথমবার পরীক্ষায় বসেও সাফল্য পাননি। দ্বিতীয়বারের প্রস্তুতির জন্য ফের পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিতে চাননি তিনি। তাই কাউকে কিছু না জানিয়েই দিল্লি থেকে আমদাবাদে ফিরে আসেন। সেখানে প্রস্তুতির খরচ জোগাড় করতে একটি স্থানীয় কোচিং প্রতিষ্ঠানে রিসেপশনিস্ট এবং কাউন্সেলর হিসেবে কাজ শুরু করেন।

চাকরি করার সময়ও পড়াশোনা থামাননি স্মিত। প্রতিদিন কাজের ফাঁকে প্রায় চার-পাঁচ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন। সেই সময় আশপাশের মানুষের কাছ থেকে নানা নেতিবাচক মন্তব্য ও তাচ্ছিল্য শুনতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু কোনও কিছুই তাঁর লক্ষ্য থেকে সরিয়ে দিতে পারেনি। প্রয়োজনীয় টাকা কিছুটা জমে গেলে চাকরি ছেড়ে ফের পুরোপুরি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মন দেন। এরপর আবার দিল্লিতে ফিরে যান। ওল্ড রাজিন্দর নগরের একটি লাইব্রেরিই হয়ে ওঠে তাঁর দিনের প্রধান ঠিকানা। দিনের প্রায় ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন সেখানে। রাতে মাত্র ছয় ঘণ্টার জন্য ভাইয়ের বাড়িতে গিয়ে বিশ্রাম নিতেন।

Success Story of Smit Panchal will surprise you.

আরও পড়ুন: পুরাতনের আবেগে আধুনিকতার পরশ, ৮০ তম বর্ষের মাতৃবন্দনায় নস্টালজিয়ার ছোঁয়া লেক টেরেস দক্ষিণী সংঘের

শেষ পর্যন্ত সেই কঠোর পরিশ্রমই সাফল্য এনে দেয়। ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় ৩০তম স্থান অর্জন করে আইএএস হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেন স্মিত পাঞ্চাল। ফল প্রকাশের পর তাঁর সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল বাবা-মাকে নিজের সাফল্যের কথা জানানো। মাকে তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, এতদিন যাঁরা নানা কথা বলে তাঁদের কষ্ট দিয়েছেন, তাঁদের সামনে আর মাথা নত করে থাকার প্রয়োজন নেই। এবার গর্ব করে বলার সময় এসেছে যে তাঁর ছেলে আইএএস অফিসার হয়েছে। আর বাবার উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল আরও আবেগপূর্ণ—এবার যেন বছরের পর বছর লোহা পিটিয়ে করা কঠিন পরিশ্রম থেকে অবসর নেন তিনি। স্মিতের এই সাফল্য (Success Story) তাই শুধু একটি চাকরি পাওয়ার গল্প নয়, বরং সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে চলার এক অনুপ্রেরণার কাহিনি।