বাংলাহান্ট ডেস্ক: গুজরাটের দুই যমজ ভাইয়ের অসাধারণ সাফল্য (Success Story) তাক লাগিয়েছে গোটা দেশকে। কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে একসঙ্গে মেডিকেল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্সে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। গুজরাটের সুরেন্দ্রনগর জেলার লিম্বডির বাসিন্দা হিম ডালসানিয়া ও হার্ড ডালসানিয়া শুধু পরীক্ষায় সফলই হননি, বরং নিজেদের পছন্দের বিশেষ শাখাতেও জায়গা করে নিয়েছেন, যা চিকিৎসা ক্ষেত্রে অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন বলে বিবেচিত।
গুজরাটের যমজ দুই ভাইয়ের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
জানা যায়, খুবই সাধারণ পরিবারে তাঁরা বড় হলেও শিক্ষার পরিবেশে বড় হয়েছেন তাঁরা। তাঁদের বাবা-মা দু’জনেই শিক্ষক, ফলে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি আলাদা আগ্রহ ছিল অন্যরকম। প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন হিম ও হার্ড। একে অপরের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁরা এগিয়ে গিয়েছেন, কেউ এগিয়ে গেলে অন্যজনকে টেনে তুলেছেন, এভাবেই তৈরি হয়েছে তাঁদের সাফল্যের ভিত্তি।
আরও পড়ুন: রুখতে হবে কালোবাজারি! অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবায় LPG-র ঘাটতি মেটাতে মন্ত্রীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
NEET-পিজি পরীক্ষায় দুই ভাইয়ের ফলাফলও যথেষ্ট প্রশংসনীয়। হিম ৫২৮ নম্বর পেয়ে সর্বভারতীয় ১৬,৬৪৩ র্যাঙ্ক অর্জন করেন, আর হার্ড ৫২৬ নম্বর পেয়ে খুব পাশ করেন। আগে NEET-ইউজি পরীক্ষায় হার্ড এগিয়ে থাকলেও, পিজিতে হিম সামান্য এগিয়ে যান। তবে প্রতিযোগিতার বদলে একে অপরকে সহযোগিতা করাই ছিল তাঁদের মূল লক্ষ্য, যা শেষ পর্যন্ত সাফল্যে রূপ নেয়।
প্রথমে দু’জনেই ভদোদরার একটি মেডিক্যাল কলেজে এমডি মেডিসিনে আসন পেলেও, তাঁরা সেখানে ভর্তি হন। নিজেদের পছন্দের শাখায় পড়ার জন্য অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে হিম ভোপালের একটি কলেজে ডার্মাটোলজি বা চর্মরোগ বিভাগে ভর্তি হন এবং হার্ড নাদিয়াদের একটি মেডিক্যাল কলেজে রেডিওলজি বেছে নেন। এই দুই শাখাকেই ‘এন্ড ব্রাঞ্চ’ বলা হয়, কারণ এখানে পিজির পর আলাদা করে স্পেশালাইজেশনের প্রয়োজন হয় না।

আরও পড়ুন: ভবানীপুরে ‘৬০ হাজার’-এর লক্ষ্য! মমতার জয়ের নতুন অঙ্ক কষলেন অভিষেক
স্কুলজীবন একসঙ্গে কাটালেও এমবিবিএস পড়াশোনার জন্য তাঁদের পথ আলাদা হয়েছিল। হিম গান্ধীনগরের একটি কলেজে পড়াশোনা করেন, আর হার্ড জামনগরের একটি প্রতিষ্ঠানে। ভিন্ন পথে চলেও তাঁদের লক্ষ্য ছিল এক, চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা পাওয়া। শেষ পর্যন্ত সেই লক্ষ্য পূরণ করে তাঁরা প্রমাণ করেছেন, কঠোর পরিশ্রম, পারস্পরিক সমর্থন এবং দৃঢ় মানসিকতা থাকলে সাফল্য (Success Story) একসঙ্গে অর্জন করা সম্ভব।












