বাংলাহান্ট ডেস্ক: একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ চোখে পড়ছে না, অন্যদিকে যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহেও (Liquefied Petroleum Gas) অস্থিরতাও কমার নাম নেই। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেশের নাগরিকদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিলেন নরেন্দ্র মোদি। মন্ত্রিসভার এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে জানান, ইরান যুদ্ধের প্রভাব থেকে ভারতীয়দের রক্ষা করতে সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বৈঠকের পর নিজের এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্টে তিনি বলেন, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।
অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবায় LPG (Liquefied Petroleum Gas)-র ঘাটতি মেটাতে মন্ত্রীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান সহ একাধিক শীর্ষ মন্ত্রী। বৈঠকে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার জেরে জ্বালানি আমদানিতে যে প্রভাব পড়েছে, তা নিয়ে বিশদে আলোচনা হয়।
আরও পড়ুন: মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন, পশ্চিম এশিয়ায় CBSE কীভাবে খাতা দেখা হবে জানাল বোর্ড
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অশোধিত তেল ও গ্যাস সরবরাহ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সারের জোগান নিয়ে। কৃষিক্ষেত্রে যাতে কোনও রকম প্রভাব না পড়ে, তার জন্য সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তেল ও গ্যাস আমদানির বিকল্প উৎস খোঁজা এবং রপ্তানির নতুন বাজার তৈরি করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, এই সংকট মোকাবিলায় সরকার বহুস্তরীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, “আমরা এই সংঘাতের প্রভাব থেকে আমাদের নাগরিকদের রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার আগাম প্রস্তুতি নিয়েই এগোতে চাইছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: ফিট না থাকলেই যাবে চাকরি! কেবিন ক্রুদের জন্য নয়া নীতি এয়ার ইন্ডিয়ার, কবে থেকে লাগু নিয়ম?
এদিকে, রান্নার গ্যাস (Liquefied Petroleum Gas) পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্র। এলপিজি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে বুকিংয়ের ব্যবধান ২৫ দিন করা হয়েছে এবং নলবাহিত পিএনজি গ্যাস ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। যদিও কেন্দ্রের দাবি, গৃহস্থালিতে গ্যাস সরবরাহ এখন স্বাভাবিক রয়েছে, তবুও যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিস্থিতি কী দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।












