বাংলা হান্ট ডেস্ক : সরকারি চাকরির অপেক্ষায় থাকা লক্ষাধিক যুবক-যুবতীর জন্য এবার বিরাট সুখবর। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে শূন্যপদ পূরণের দাবি উঠলেও এবার সেই প্রক্রিয়াকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder)। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে নিয়মিত দিন অন্তর স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ করা হবে এবং কোনও ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
চাকরি প্রার্থীদের আশ্বাস সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumder)
নিউটাউনে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার জানান, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দপ্তরে শূন্যপদ পূরণের জন্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। শিক্ষা থেকে শুরু করে অন্যান্য সরকারি বিভাগে নিয়োগের জন্য আর্থিক সংস্থানও করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করার জন্য। তাঁর একটা নির্দিষ্ট রূপরেখা রয়েছে। স্কুল, উচ্চশিক্ষা-সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের জন্য বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। এ বার সমস্ত পদ্ধতি মেনে সেই পদগুলিতে নিয়োগ হবে।”
তিনি স্পষ্ট করে জানান, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখাই সরকারের অগ্রাধিকার। প্রতি বছর নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। পাশাপাশি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে কেউ অর্থ দাবি করলে তা অবিলম্বে সরকারের নজরে আনার আহ্বান জানান। তাঁর কথায়, এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। ইন্টারভিউ বা মৌখিক পরীক্ষায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি নম্বর দেওয়ার সুযোগ আর থাকবে না বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে কর্মসংস্থান বাড়াতে নিয়মিত চাকরি মেলার আয়োজনের কথাও ঘোষণা করে তিনি বলেন, “এসএসসি-এর ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষা বা ইন্টারভিউতে নিয়ম করে বেশি নম্বর দিয়ে দেওয়া চলবেনা। পার্সোনালিটি টেস্ট-এর যে পরিমাণ নম্বর থাকার প্রয়োজন তা থাকবে। যুবক যুবতীদের চাকরির সুযোগ বৃদ্ধির জন্য প্রতি দু’তিন মাস অন্তর ‘জব ফেয়ার’ বা চাকরি মেলার আয়োজন করা হবে।”

আরও পড়ুন : ‘আমাকে ইউজ..’, এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে নিয়ে বিস্ফোরক রচনা
প্রসঙ্গত, বিশ্ব এমএসএমই দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কলকাতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে একই সুর শোনা যায় রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্যে। শিল্পের প্রসার, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে সামনে রেখে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি। সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, দ্রুত শূন্যপদ পূরণ এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির যে আশ্বাস কেন্দ্র ও রাজ্যের তরফে উঠে এসেছে, তা চাকরিপ্রার্থীদের প্রত্যাশা অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।













