বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বসন্ত পঞ্চমীকে ঘিরে মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার ভোজশালায় দীর্ঘদিনের বিতর্কে এবার স্পষ্ট নির্দেশ দিল সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। শুক্রবার একই দিনে নির্দিষ্ট সময় ও শর্ত মেনে ভোজশালায় হিন্দু ও মুসলিম, দু’পক্ষই প্রার্থনা করতে পারবে বলে জানিয়ে দিল আদালত। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
কী নির্দেশ দিল আদালত (Supreme Court)?
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জানিয়ে দেয়, বসন্ত পঞ্চমীর দিন শুক্রবার ভোজশালায় দুই সম্প্রদায়ই প্রার্থনা করতে পারবে।
- হিন্দুদের জন্য: সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পুজোর অনুমতি।
- মুসলিমদের জন্য: নির্ধারিত জায়গায় দুপুর ১টা থেকে ৩টে পর্যন্ত নমাজ।
নমাজে অংশ নিতে যাঁরা আসবেন, তাঁদের নামের তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিতে হবে। এই নির্দেশ দেয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ। পাশাপাশি, শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দু’পক্ষকেই পরস্পরের প্রতি সম্মান ও সহযোগিতার বার্তা দেয় আদালত।
ভোজশালা বিতর্কের পটভূমি
মধ্যপ্রদেশের ধার জেলায় অবস্থিত ভোজশালার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে Archaeological Survey of India (ASI)। ভোজশালাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের দাবি-দাওয়া রয়েছে যে –
- হিন্দুদের দাবি, সৌধটি আসলে সরস্বতী মন্দির।
- মুসলিমদের দাবি, এটি কমল মওলা মসজিদ।
২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল ASI নির্দেশ দেয় ভোজশালা কমপ্লেক্সে প্রতি মঙ্গলবার হিন্দুরা পুজো করতে পারবেন এবং শুক্রবার মুসলিমরা নমাজ পাঠ করতে পারবেন।
এ বছর কেন জটিলতা তৈরি হল?
চলতি বছর ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার বসন্ত পঞ্চমী পড়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়। ‘ভোজ উৎসব কমিটি’ পুজোর অনুমতি চেয়ে ASI-র কাছে আবেদন করে। মুসলিম পক্ষ থেকে দুপুর ১টা থেকে ৩টে পর্যন্ত নমাজের আবেদন জানানো হয়। এছাড়া ‘হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস’ সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) জানায়, ২০০৩ সালের ASI নির্দেশে শুক্রবার বসন্ত পঞ্চমী পড়লে কী হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। ২ জানুয়ারি দ্রুত শুনানির আবেদন করা হয়। এই সব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

আরও পড়ুনঃ SIR নিয়ে সরব মমতা, দু-তিন দিনেই লিখলেন ২৬টি কবিতা, বইমেলায় পাওয়া যাবে বই
এর আগে ২০১৬ সালে বসন্ত পঞ্চমী শুক্রবার পড়ায় ভোজশালায় বিক্ষোভ ও অশান্তি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশে এ বছর বিশেষ সতর্কতা নিয়েছে মধ্যপ্রদেশ প্রশাসন। ধার জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ৮০০০ পুলিশ, সঙ্গে CRPF ও RAF। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় উস্কানিমূলক পোস্ট নজরে রাখতে চলছে বিশেষ নজরদারি।












