বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সম্মতিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক পরে তিক্ত হয়ে গেলে তাকে ‘মিথ্যা বিয়ের প্রতিশ্রুতি’ বলে ধর্ষণের অভিযোগে বদলে ফেলা আইনসম্মত নয়। সম্প্রতি এমনটাই জানাল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বিচারপতি বি ভি নাগরত্না এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়ার বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণ করেছে।
কী বলছে আইন (Supreme Court)?
আদালতের (Supreme Court) মতে, কোনও মহিলা যদি তাঁর বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় অন্য পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং পরে সেই সম্পর্ক ভেঙে গেলে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির অভিযোগ তোলেন, তাহলে তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কারণ, আইন অনুযায়ী তিনি তখন নতুন করে বিয়ে করার যোগ্য নন।
এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই এক মামলায় অভিযুক্ত আইনজীবীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলা খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। অভিযোগকারী মহিলাও পেশায় আইনজীবী ছিলেন। আদালত স্পষ্ট জানায়, ওই সম্পর্কটি সম্পূর্ণ সম্মতিপূর্ণ ছিল এবং পরে ব্যক্তিগত তিক্ততার কারণে তা আইনি মামলায় পরিণত করা হয়েছে।
আদালত (Supreme Court) আরও উল্লেখ করেছে, হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকলে দ্বিতীয় বিয়ে সম্পূর্ণ বেআইনি। ফলে এমন পরিস্থিতিতে দেওয়া কোনও “বিয়ের প্রতিশ্রুতি” আইনের চোখে কার্যকরই হতে পারে না। তাই এর ভিত্তিতে ধর্ষণের অভিযোগ তোলা যুক্তিসঙ্গত নয়।

আরও পড়ুনঃ RG Kar দুর্নীতি মামলায় বড় মোড়! আখতার আলির বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেছে, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে আদালতগুলিকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। প্রকৃত অপরাধ আর আইনের অপব্যবহারের অভিযোগ, দু’টিকে যেন এক করে দেখা না হয়, সেই বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।












