বাংলা হান্ট ডেস্ক : ট্রেনের টিকিট (Train Tickets) হাতে পেতে এখনও অনেক যাত্রী স্টেশনের বুকিং কাউন্টারের উপরেই ভরসা করেন। কিন্তু টিকিট কাটার মাধ্যম আলাদা হওয়ায় এত দিন যাত্রার বিমার সুযোগ থেকেও তাঁরা বঞ্চিত ছিলেন। এবার সেই ব্যবস্থায় বদল আনার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে কাউন্টারে বিক্রি হওয়া টিকিটেও বিমার সুবিধা চালুর কথা বলা হয়েছে।
ট্রেনের সব টিকিটেই (Train Tickets) এবার বিমার সুযোগ
এই নির্দেশের ফলে কাউন্টার থেকে টিকিট কেনা যাত্রীদের জন্য নতুন সুবিধার দরজা খুলতে পারে। তবে কীভাবে এই বিমা নেওয়া যাবে, টিকিট কাটার সময় কোনও বিকল্প বেছে নিতে হবে কি না এবং এর জন্য আলাদা প্রিমিয়াম দিতে হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত নিয়ম সামনে আসেনি। তাই বিমার সুবিধা বাস্তবে কীভাবে মিলবে, তা জানতে রেলের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জুনে ওড়িশায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর রেলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে যাত্রী বিমার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনলাইনে টিকিট বুক করা যাত্রীরা বিমার সুযোগ পেলেও কাউন্টার থেকে টিকিট কেনা ব্যক্তিদের জন্য একই ব্যবস্থা না থাকায় প্রশ্ন ওঠে। এই বৈষম্য দূর করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আহসানউদ্দিন আমানুল্লাহ এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ। গত ৬ অক্টোবর এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
বর্তমানে আইআরসিটিসির ওয়েবসাইট কিংবা রেলওয়ান অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট বুক করার সময় যাত্রীরা চাইলে বিমার সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিট কেনার ক্ষেত্রে সেই সুযোগ ছিল না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে কাউন্টারে বিক্রি হওয়া টিকিটেও বিমার ব্যবস্থা চালু করতে হবে। নির্দেশ কার্যকর না হলে রেলওয়ে বোর্ডকে দায়ী করা হতে পারে বলেও জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
অনলাইনে টিকিট বুক করার সময় যে বিমা প্রকল্প চালু রয়েছে, তার আওতায় নির্দিষ্ট দুর্ঘটনা বা বিমার শর্তে অন্তর্ভুক্ত ঘটনার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রচলিত বিমা প্রকল্পে ক্ষতিপূরণের সীমা অনুযায়ী, যাত্রীর মৃত্যু হলে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে। দুর্ঘটনার ফলে স্থায়ীভাবে সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে পড়লেও ক্ষতিপূরণের অঙ্ক ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। স্থায়ী আংশিক অক্ষমতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭.৫ লক্ষ টাকা এবং দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর জন্য সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া মৃতদেহ পরিবহণের খরচ বাবদ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়ার বিধান রয়েছে।

আরও পড়ুন :আগামী ৭ দিন ট্রেন চলাচলে বড় বদল, বাতিল একাধিক ট্রেন! জেনে নিন বিস্তারিত
তবে বিমার নির্ধারিত সীমা, সব ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে পাওয়া অর্থ নয়। সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনার ধরন, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এবং বিমার শর্ত অনুযায়ী চূড়ান্ত ক্ষতিপূরণ নির্ধারিত হবে। কাউন্টার টিকিটের ক্ষেত্রে একই কাঠামো কীভাবে কার্যকর হবে, তা রেলের নির্দেশিকায় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।অনলাইনে টিকিট কাটার সময় বিদ্যমান বিমা প্রকল্পে জনপ্রতি ৪৫ পয়সা প্রিমিয়াম দিতে হয়। বুকিংয়ের সময় যাত্রীরা বিমার বিকল্প বেছে নিতে পারেন। কিন্তু কাউন্টার থেকে টিকিট কেনার ক্ষেত্রে এই একই প্রিমিয়াম ধার্য হবে কি না, অথবা বিমার জন্য অন্য কোনও পদ্ধতি চালু হবে কি না, তা এখনও জানানো হয়নি। রেলের টিকিট কাটার মাধ্যমের কারণে বিমার সুযোগে যে পার্থক্য ছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নতুন ব্যবস্থা চালু হলে বিমা কীভাবে নিতে হবে, তা জানা।














