বাংলা হান্ট ডেস্কঃ হাই কোর্টের বিচারপতির উদ্দেশ্যে আঙুল তুলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আদালত অবমাননার নোটিস পাওয়া এক আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, বিষয়টিকে হালকা ভাবে দেখার কোনও সুযোগ নেই।
শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ আইনজীবী মহেশ তিওয়ারির উদ্দেশে মন্তব্য করে, “আপনি কি এখানে এসেছেন এটা দেখানোর জন্য যে, হাই কোর্ট আপনার কিচ্ছু করতে পারেনি?” এই মন্তব্যেই বোঝা যায়, তাঁর আচরণ নিয়ে শীর্ষ আদালত (Supreme Court) কতটা অসন্তুষ্ট।
ঘটনার সূত্রপাত কোথায়?
গত বছরের অক্টোবর মাসে সমাজমাধ্যমে ঝাড়খণ্ড হাই কোর্টের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা হয়নি, তবে অভিযোগ অনুযায়ী ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আইনজীবী মহেশ তিওয়ারি বিচারপতি রাজেশ কুমার-এর উদ্দেশ্যে আঙুল উঁচিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতেই ঝাড়খণ্ড হাই কোর্ট-এর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ মহেশের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিস জারি করে।
এক মহিলার হয়ে হাই কোর্টে মামলা লড়ছিলেন মহেশ তিওয়ারি। দেড় লক্ষ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় ওই মহিলার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেয় বিদ্যুৎ দপ্তর।
মহেশের আবেদন ছিল ২৫ হাজার টাকা জমা দিলেই যেন বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বিচারপতির স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, মোট বকেয়ার অন্তত ৫০ শতাংশ জমা করতে হবে। সেই শর্তে মহেশ প্রথমে সম্মতিও জানান।
কীভাবে তৈরি হয় বিতর্ক?
এরপরই শুনানি চলাকালীন আইনজীবী ও বিচারপতির মধ্যে বচসা শুরু হয়। মহেশের কথা বলার ধরন নিয়ে বিচারপতি আপত্তি তোলেন এবং রাজ্য বার কাউন্সিলকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার ইঙ্গিত দেন। সেই মুহূর্তে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, তখনই মহেশ বিচারপতিকে বলেন, “আমি আমার মতো করেই কথা বলব। আপনার কথা শুনে চলব না। আপনি আমাকে অপমান করতে পারেন না।” এর পরেই তিনি আরও বলেন, “আমি ৪০ বছর ধরে আইনজীবীর পেশায় রয়েছি। আপনি লাইন ক্রস করবেন না। দয়া করে লাইন ক্রস করবেন না।”

আরও পড়ুনঃ SIR শুনানিতে তাণ্ডব! কমিশনের নির্দেশের পরও FIR নেই কেন মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে?
সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) কী হল?
এই পুরো ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মহেশ সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) আবেদন করেন। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মন্তব্য করেন, “উনি চাইলে ক্ষমা চাইতে পারেন, আবার রক্তচক্ষুও দেখাতে পারেন। আমরা সব দেখছি। তারপর ঠিক করব কী করা যায়।” তবে একই সঙ্গে শীর্ষ আদালত জানায়, যদি মহেশ আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান, তাহলে হাই কোর্ট যেন বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করে এই পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।












