‘অনুমানের ভিত্তিতে অভিযোগ নয়’, ফর্ম ৬ প্রসঙ্গে কল্যাণকে সরাসরি সতর্ক করল সুপ্রিম কোর্ট

Published on:

Published on:

Supreme Court Questions Bulk Form 6 Submissions
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের আগে হঠাৎ করেই বিপুল সংখ্যায় ফর্ম ৬ জমা পড়া নিয়ে জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই ফর্মের মাধ্যমেই ভোটার তালিকায় নতুন নাম যোগ করা হয়। রাজ্য সরকারের তরফে অভিযোগ ওঠে, একসঙ্গে এত আবেদন কেন জমা পড়ছে তা স্পষ্ট নয়। এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) উঠতেই বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে অভিযোগ করা যাবে না, প্রমাণ দরকার।

ফর্ম ৬ নিয়ে বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) মন্তব্য

নয়া দিল্লিতে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) এসআইআর মামলার শুনানির সময় ফর্ম ৬ নিয়ে এই বিতর্ক সামনে আসে। রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে বলেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেও একসঙ্গে অনেক ফর্ম ৬ জমা পড়ছে। কেন এই সময়ে এত আবেদন আসছে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। যদিও তিনি কোনও নির্দিষ্ট দলকে দায়ী করেননি।

এই বক্তব্যের পরই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “অনুমানের ভিত্তিতে কথা বলবেন না।” অর্থাৎ, শুধু সন্দেহ থাকলেই আদালতে অভিযোগ তোলা যাবে না। নির্বাচন কমিশনের পক্ষের আইনজীবী নাইডু তখন জানান, নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়নের শেষ দিন পর্যন্ত ফর্ম ৬ জমা দেওয়া যায়। এমনকি কেউ যদি সেই দিন ১৮ বছরে পা দেন, তিনিও আবেদন করতে পারেন। তাই এই প্রক্রিয়া বন্ধ করা সম্ভব নয়।

এদিকে আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, সমস্যা হচ্ছে। অনেক ফর্ম একসঙ্গে জমা পড়ছে এবং কারা আবেদন করছেন, তা বোঝা যাচ্ছে না। এই প্রসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, একজন ব্যক্তি নাকি প্রায় ৬০০০ ফর্ম জমা দিয়েছেন। তবে প্রধান বিচারপতি বলেন, এরকম ঘটনা আগে হয়েছে, তাই একে নতুন কিছু বলা যাবে না। যদিও আবেদনকারীদের তথ্য প্রকাশ করা উচিত কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়। কল্যাণের দাবি, বুথভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করা হলে অভিযোগ থাকলে জানানো সহজ হবে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী জানান, নির্বাচন কমিশন যে শেষ তারিখ ঠিক করেছে, তার মধ্যে যারা আবেদন করেছেন, তাঁদের নাম তালিকায় উঠতে পারে। তবে পরে নাম উঠলেও সবাই ভোট দিতে পারবেন না।

Supreme Court Pulls Up State in SIR Hearing

আরও পড়ুনঃ ৭ এপ্রিলের মধ্যে সব ফয়সালা! ভোটার তালিকা নিয়ে বড় আশ্বাস দিল সুপ্রিম কোর্ট

অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান আদালতে (Supreme Court) বলেন, বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ নতুন নাম যুক্ত হচ্ছে এবং ৪৫ শতাংশ নাম বাদ যাচ্ছে, যা বেশ অস্বাভাবিক। এই বিতর্কের মাঝেই মঙ্গলবার রাজ্যের CEO দপ্তরে উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। বিজেপির অভিযোগ, তাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। পাল্টা তৃণমূলের দাবি, বিজেপি ফর্ম ৬ ব্যবহার করে বাইরের লোক ঢোকানোর চেষ্টা করছে।