বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নবম শ্রেণি থেকে তৃতীয় ভাষা পড়ানো বাধ্যতামূলক করার সিবিএসই-র পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। আদালতের মতে, এই সময় পড়ুয়াদের উপর পড়াশোনার চাপ অনেক বেড়ে যায়। তার মধ্যে নতুন একটি ভাষা যোগ করলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। তাই কেন্দ্রকে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আবার ভাবার পরামর্শ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
তৃতীয় ভাষা নীতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) মন্তব্য
জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ অনুযায়ী নবম ও দশম শ্রেণিতে তৃতীয় ভাষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করেছে সিবিএসই। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তামিলনাড়ু সরকার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) যায়। মাদ্রাজ হাইকোর্টের একটি মামলার শুনানির সূত্রে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে ওঠে। সেই সময় কেন্দ্রের তিন ভাষার নীতি নিয়েও আপত্তি জানায় তামিলনাড়ু সরকার।
শুনানির সময় বিচারপতি বিভি নাগারত্ন বলেন, নবম শ্রেণিতে এসে নতুন ভাষা শেখানো ঠিক নয়। তাঁর মতে, যদি তৃতীয় ভাষা শেখাতেই হয়, তাহলে তা ষষ্ঠ শ্রেণি বা তারও আগে থেকে শুরু করা উচিত। কারণ অষ্টম শ্রেণির পর থেকেই বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় এবং পড়ুয়াদের উপর চাপ বাড়তে থাকে।
আদালত (Supreme Court) কেন্দ্রকে জানায়, নবম শ্রেণিতে নতুন ভাষা চালু করলে ছাত্রছাত্রীদের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হবে। তাই এই সিদ্ধান্ত নতুন করে খতিয়ে দেখা দরকার। নিজের স্কুলজীবনের কথা বলতে গিয়ে বিচারপতি নাগারত্ন জানান, তাঁদের সময়ে ছোট ক্লাস থেকেই একাধিক ভাষা শেখানো হতো। ফলে পরে গিয়ে আলাদা করে চাপ তৈরি হতো না।
শুনানিতে আদালত (Supreme Court) আরও স্পষ্ট করে দেয়, জাতীয় শিক্ষা নীতিতে তৃতীয় ভাষা হিসেবে হিন্দিকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি। রাজ্যের ভাষা, ইংরেজি এবং আরও একটি ভাষা শেখার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সেখানে হিন্দির কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। মামলাকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনও রাজ্যের উপর কোনও ভাষা চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। সেই সময় আদালত জানতে চায়, যদি তৃতীয় ভাষা হিসেবে সংস্কৃত রাখা হয়, তাহলে আপত্তি কোথায়।

আরও পড়ুনঃ রাজ্যে সঙ্কট, দিল্লিতে সব শক্তি নিয়ে ঝাঁপ মমতা-পন্থী তৃণমূলের, কী স্ট্র্যাটেজি দলের?
সিবিএসই জানিয়েছে, ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে এই নিয়ম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তৃতীয় ভাষার জন্য বোর্ড পরীক্ষা না হলেও স্কুলের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। সেই বিষয়ে পাশ না করলে মাধ্যমিক পাশের শংসাপত্র দেওয়া হবে না বলেই সিবিএসই-র প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে (Supreme Court)।













