বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সম্প্রতি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে হাওয়া একটি জনস্বার্থ মামলায় দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) তৈরি হল তুমুল বিতর্ক। মামলাকারী কিছু বিশেষ দাবি জানালে, আদালত তা শুনতেই রাজি হল না। উল্টে প্রধান বিচারপতি সরাসরি কড়া ভাষায় সতর্ক করে দেন এই ধরনের আবেদন আর করলে ভবিষ্যতে আদালতে ঢোকার অধিকারই কেড়ে নেওয়া হতে পারে। কেন এতটা বিরক্ত হল আদালত, আর আসলে কী চেয়েছিলেন মামলাকারী,তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
নেতাজিকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) কী কী দাবি মামলাকারীদের?
দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) সোমবার এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এবং তাঁর গড়ে তোলা Azad Hind Fauj-কে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। মামলায় মূলত দু’টি দাবি তোলা হয়েছিল।
- প্রথমত, নেতাজিকে সরকারিভাবে ‘জাতীয় সন্তান’ হিসেবে ঘোষণা করার আবেদন।
- দ্বিতীয়ত, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রকৃত কৃতিত্ব আজাদ হিন্দ বাহিনীকে দেওয়ার দাবি।
এই মামলাটি ওঠে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে। শুনানির সময় বিচারপতিরা স্পষ্টভাবেই বিরক্তি প্রকাশ করেন। আদালতের (Supreme Court) মতে, এই ধরনের আবেদন দেশের প্রতি আন্তরিকতার চেয়ে ব্যক্তিগত প্রচারের উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে বেশি। শুধু তাই নয়, আদালত আরও জানায়, একই ব্যক্তি আগেও প্রায় একই ধরনের একটি মামলা করেছিলেন, যা খারিজ হয়ে গিয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে প্রধান বিচারপতি বলেন, বারবার এইভাবে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করা হচ্ছে।
শুনানির সময় মামলাকারী বোঝানোর চেষ্টা করেন যে এবারের আবেদন আগের থেকে আলাদা। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট হননি বিচারপতিরা। উল্টে আরও কঠোর অবস্থান নেন। সরাসরি সতর্ক করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে তাঁর সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) প্রবেশই বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ বিজেপি এলেই সমাধান! দার্জিলিং থেকে গোর্খাদের বড় আশ্বাস অমিত শাহের
এখানেই থেমে থাকেনি আদালত (Supreme Court)। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে এই নির্দিষ্ট ব্যক্তির কোনও জনস্বার্থ মামলা যেন গ্রহণ না করা হয়। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালত মনে করছে নেতাজির মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের নাম ব্যবহার করে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই কারণেই আদালত এতটা কড়া অবস্থান নিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আবেদনটি খারিজ করে কার্যত নিষেধাজ্ঞার পথেই হাঁটল।












