বাংলা হান্ট ডেস্ক : শহরের এক প্রান্তে বহু বছর ধরে কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা বেহালা বিমানবন্দর (Behala Airport) ঘিরে ফের আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আগাছা ও জঙ্গলে ঢেকে থাকা এই এলাকাকে নতুন করে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে ভবিষ্যতে কলকাতার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান পরিষেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
বেহালা বিমানবন্দর (Behala Airport) নিয়ে আশার আলো
দেশভাগের পরবর্তী সময়ে গড়ে ওঠা এই বিমানবন্দরে একসময় প্রশিক্ষণমূলক উড়ান এবং ছোট বিমানের ব্যবহারের জন্য জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কার্যক্রম কমতে কমতে প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে নিয়মিত বিমান ওঠানামা না হলেও, আবারও চার্টার্ড ফ্লাইট এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেখছেন। বিমানক্ষেত্রের বর্তমান অবস্থা, জমির পরিধি এবং পরিকাঠামোগত সমস্যাগুলি চিহ্নিত করতে ড্রোন সমীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকের সহযোগিতা চেয়ে যোগাযোগও শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে রাজ্য সরকার যে নতুন কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে, তার সঙ্গেও এই প্রকল্পের যোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ও এই উদ্যোগে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে বিমানক্ষেত্রকে পুনরায় চালু করার পথে একাধিক জটিলতা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জমির নির্দিষ্ট সীমানা চিহ্নিত না হওয়া, নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল থাকা এবং বিভিন্ন অংশে অনুপ্রবেশ বা দখলের অভিযোগের কারণে উন্নয়নমূলক কাজ এগোয়নি। বিমানবন্দর হিসেবে ব্যবহার করতে গেলে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলা বাধ্যতামূলক হওয়ায় প্রথমেই পুরো এলাকা সুরক্ষিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

একসময় যেখানে পাইলট তৈরির প্রশিক্ষণ চলত, সেই কেন্দ্র আজ প্রায় নিস্তব্ধ। মাঝে মধ্যে ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার ব্যবহার ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনও বিমান চলাচল নেই। অতীতে একাধিকবার পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে এবার প্রশাসনিক স্তরে নতুন করে তৎপরতা শুরু হওয়ায় আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা। বহু বছরের অচলাবস্থা কাটিয়ে বেহালার আকাশে আবারও বিমানের শব্দ শোনা যাবে কি না, এখন সেই উত্তরই খুঁজছে কলকাতা।














