বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের মুখে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু হল রাজ্যে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অভিযোগ তুললেন, তাঁর ও দলের অন্যান্য নেতাদের ফোন ও লোকেশন ট্র্যাক করা হচ্ছে। এই গুরুতর অভিযোগ জানিয়ে তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে নালিশ করেছেন। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কিছু বক্তব্য নিয়েও কমিশনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।
কী অভিযোগ শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari)?
মঙ্গলবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) দাবি করেন, তিনি এবং দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-সহ একাধিক বিজেপি নেতার ফোন ও লোকেশন নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। এই অভিযোগ জানিয়ে তিনি সরাসরি সিইও দপ্তরের দ্বারস্থ হন। শুভেন্দুর অভিযোগ, STF-এর জাভেদ শামিম এবং IB-র বিনীত গোয়েল সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক এই নজরদারির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর কথায়, শুধু শীর্ষ নেতৃত্ব নয়, মণ্ডল স্তরের নেতাদেরও ট্র্যাক করা হচ্ছে এবং এই বিষয়ে তাঁদের কাছে প্রমাণও রয়েছে।
তিনি (Suvendu Adhikari) আরও জানান, CID, STF, IB ও ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটি, এই সমস্ত সংস্থার কাজকর্মে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। কারণ কমিশনের নির্দেশ অনেক ক্ষেত্রে ঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। একই সঙ্গে ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটি মনোজ ভর্মার বিরুদ্ধেও সরব হন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা তৈরি করে শাসকদলের নেতাদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া জঙ্গিপুরের এসপি মেহেদি হাসান এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের এসপি পলাশ ঢালিও কমিশনের কাজে হস্তক্ষেপ করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধেও নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জমা দিয়েছেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, মমতার দুটি ভাষণের ভিডিও ক্লিপ ও পেনড্রাইভ কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর অভিযোগ, এক সভায় মুখ্যমন্ত্রী নাকি মহিলাদের কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে উস্কানি দিয়েছেন। তাঁর কথায়, এই ধরনের মন্তব্য নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া আরেকটি বক্তব্য নিয়ে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি বিজেপি কর্মীদের পোস্টার দিয়ে নিজেদের অস্বীকার করতে বলছেন। শুভেন্দুর দাবি, এই ধরনের মন্তব্যে বিজেপি সমর্থকদের উদ্দেশে হুমকির ইঙ্গিত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ তারিখ ময়নাগুড়িতে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে এই মন্তব্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি প্রার্থী রামমোহন রায়ের সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “কাউকে গাছে বেঁধে মারধর করতে যেও না, নির্বাচনের পরে পোস্টার লাগিয়ে বলতে হবে আমি বিজেপি করি না।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েছেন। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্বাচনী প্রচার থেকে সরানোর দাবিও তুলেছে বিজেপি।

আরও পড়ুনঃ SC সার্টিফিকেট থেকে ১৯ কোটির দুর্নীতি! বনগাঁয় TMC প্রার্থীকে নিয়ে বড় অভিযোগ
শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) দাবি করেন, অতীতে অন্য নেতাদের বক্তব্য নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই নজির টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রে একই নিয়ম কেন প্রযোজ্য হবে না। এই বিষয়ে কমিশনের কাছে লিখিত দাবিও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।












