বাংলা হান্ট ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক বড়সড় পালাবদলের সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুর কেন্দ্রে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ফল ঘোষণার পর সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া জয়ের শংসাপত্র হাতে বেরিয়ে আসেন তিনি। বাইরে তখন উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েছেন সমর্থকেরা। মিষ্টি বিতরণ, আবির খেলা আর জয়ধ্বনিতে মুখর চারদিক।
জয়ের পর কী বললেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ?
চারিদিকে তখন গেরুয়া ঝড়, সেই আবহে জয়ী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমাকে জিতিয়েছেন ভবানীপুরের হিন্দু, জৈন, শিখ সমাজ। আমি তাঁদের প্রণাম জানাই।এ জয় হিন্দুত্বের জয়, বাংলার জয়, মোদীজির জয়।”
নিজের এই জয়ের কৃতিত্ব তিনি উৎসর্গ করেন পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্বের জন্য প্রাণ দেওয়া বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে। তাঁর কথায়, “পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্বের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা ৩০০ বিজেপি কর্মীর প্রতি।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু। একইসঙ্গে প্রয়াত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভূমিতে এই ঐতিহাসিক ফলাফলের জন্য তিনি সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারী মোট ৭৩,৯১৭টি ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পেয়েছেন ৫৮,১১২টি ভোট। ফলে জয়ের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৫,১০৫ ভোট। শুধু ভবানীপুর নয়, নন্দীগ্রামেও নিজের প্রভাব বজায় রেখেছেন শুভেন্দু। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল থেকেই নন্দীগ্রামের গণনাকেন্দ্র হলদিয়ার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

আরও পড়ুন :‘স্বাস্থ্য দপ্তরের দুর্নীতি কতটা গভীরে..’ জয়ী হয়ে মেয়ের বিচারের আশায় পানিহাটির রত্না দেবনাথ
উল্লেখযোগ্যভাবে, বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৬৭ সালে অজয় মুখোপাধ্যায় যে নজির গড়েছিলেন একাধিক আসনে প্রার্থী হয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল সেনকে হারানোর ঘটনা। সেই ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সঙ্গেই তুলনা টানা হচ্ছে শুভেন্দুর এই সাফল্যের। ভবানীপুরে শুভেন্দুর জয় শুধু একটি আসনের জয় নয়, বরং রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। আগামী দিনে এই ফলাফল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।












