বাংলা হান্ট ডেস্ক : বাংলার (West Bengal) রাজনীতিতে বিরাট পালাবদল। ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের অবসান। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের দোরগোড়ায় বিজেপি (Bharatiya Janata Party)। এবারের নির্বাচনে যে প্রার্থীদের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম পানিহাটির জয়ী প্রার্থী রত্না দেবনাথ-এর (Ratna Debnath) নাম। নির্বাচনে জয়ী হয়ে সকলের উদ্দেশ্যে বার্তা দিলেন তিনি।
কী বললেন রত্না দেবনাথ (Ratna Debnath) ?
সোমবার ফল ঘোষণার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি তাঁর জয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উৎসর্গ করে বলেন, “বাংলায় অনেক অভিযোগ, চাকরি নেই, স্কুলগুলিতে তালা পড়ে গেছে, বলেছিলাম তৃণমূলের মূল উপড়ে ফেলব, আমি হয়তো সেটা পেরেছি।”
একইসঙ্গে নিজের বিধানসভা এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “পানিহাটি থেকে ঘোষ পরিবারের থ্রেট কালচার থেকে মুক্ত করব, এই ভয়ের দুর্নীতি থেকে পানিহাটি থেকে মুক্ত করতে পারব।” নতুন বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর অগ্রাধিকার কী—এই প্রশ্নে তিনি সরাসরি জানান, “আমার মেয়ে যে দুর্নীতির জন্য খুন হয়েছে, সেই স্বাস্থ্য দফতরের দুর্নীতি কতটা গভীরে সেটা খুঁজে বের করব।” অর্থাৎ প্রশাসনিক স্তরে দুর্নীতির শিকড় খুঁজে বের করাই তাঁর প্রথম লক্ষ্য।
এদিকে, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুর কেন্দ্রে, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন মমতা। এই প্রসঙ্গে রত্না দেবনাথ বলেন, “ওঁর জেলযাত্রা ও ফাঁসি চাই।” নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়েও আবেগঘন বার্তা দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “রাজনীতিতে একটা পদ পেয়েছি। কিন্তু আমি অভয়া, তিলোত্তমার মা হয়ে থাকতে চাই না। মেয়ের নাম প্রকাশ্যে আনতে পারি না, তবে ডক্টর দেবনাথের মা হয়েই থাকতে চাই।”
প্রসঙ্গত, রাজনীতিতে তাঁর প্রবেশ নিয়ে প্রথম থেকেই নানা জল্পনা ছিল। শুরুতে নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা স্পষ্ট করেছিলেন যে তাঁরা সক্রিয় রাজনীতিতে আসতে চান না। কিন্তু ভোটের আগে বিজেপির প্রার্থী তালিকায় রত্না দেবনাথের নাম ঘোষণা হয়। পানিহাটি কেন্দ্রে তাঁকে প্রার্থী করা হয়, প্রচারে উঠে আসে আরজি করের ঘটনা।

আরও পড়ুন : বাংলায় ক্ষমতায় BJP! মাসে ৩০০০ টাকা থেকে UCC, কী কী বড় সিদ্ধান্ত আসছে?
রত্না দেবনাথও জানান, মেয়ের জন্য ন্যায়বিচার আদায় করতেই তাঁর এই রাজনৈতিক পথে আসা। বিরোধী দলের প্রার্থীদের হারিয়ে রত্না দেবনাথ জয়ী হন। এই ফলাফল কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়, বরং ব্যক্তিগত শোক থেকে উঠে এসে জনসমর্থনের মাধ্যমে এক নতুন লড়াইয়ের সূচনা।













