বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভবানীপুর কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই এবার আরও জমে উঠেছে। একদিকে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি, অন্যদিকে বিজেপির চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ভোটার সংখ্যা থেকে শুরু করে প্রচারের কৌশল, সবকিছু নিয়েই মুখ খুললেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)
পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে হারিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এবার সেই লড়াই পৌঁছেছে ভবানীপুরে। যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর নিজের কেন্দ্রেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি তৃণমূলের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দেন, ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৬০ হাজারের বেশি ভোটে জেতাতে হবে।
এই প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান জানাতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, শুরুতে তিনি আশাবাদী থাকলেও এখন ফলাফল সম্পূর্ণভাবে মানুষের উপরই ছেড়ে দিচ্ছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ভয় পান কি না, এই প্রশ্নের জবাবে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, তিনি বিজেপি, নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলিকেই ভয় পান।
ভবানীপুরে তৃণমূলের জনসমর্থন নেই বলেও দাবি করেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। তাঁর কথায়, এলাকার অনেক ভোটারকে ‘বহিরাগত’ বলা হয়েছে, ফলে তাঁদের সমর্থন পাওয়া কঠিন। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু নির্দিষ্ট সংস্কৃতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা ভোটের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। শুভেন্দুর মতে, মমতার রাজনৈতিক শক্তির দুটি স্তম্ভ, পুলিশ এবং আইপ্যাক। তবে এই দুটির সঙ্গেই সাধারণ মানুষের কোনও সম্পর্ক নেই বলেই দাবি তাঁর। অতীতে বিরোধী প্রার্থীদের প্রচারে বাধা দেওয়া হলেও, এবার তিনি নিজে প্রচার চালিয়ে যাবেন এবং ধীরে ধীরে তা বাড়াবেন বলেও জানান।
ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রামেও প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু। তাই রাজ্যজুড়ে প্রচার চালানোর পাশাপাশি পূর্ব ও অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলায় বিশেষ নজর রাখার কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি ভবানীপুরে বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিশিষ্টজনদের বাড়িতে পৌঁছনোর পরিকল্পনার কথাও জানান। ধর্মীয় স্থানেও যাওয়ার ইচ্ছার কথা উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুনঃ ভোটের জন্য গাড়ি বা বাস নিলে কত ভাড়া গুনতে হবে? কমিশনকে হিসাব দিল পরিবহন দপ্তর
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, ভোটার তালিকা নিয়ে বড় দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, আগে যেখানে ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লক্ষ ৫ হাজার, তা কমে এখন ১ লক্ষ ৬০ হাজারে নেমে এসেছে। তাঁর মতে, ভুয়ো ভোট বাদ যাওয়ার ফলে তালিকা আরও পরিষ্কার হয়েছে। তাই অবাধ ও ভয়মুক্ত নির্বাচন হলে ফল ভালোই হবে বলে আশা তাঁর। তৃণমূলের কাউন্সিলরদের বাড়ি বাড়ি প্রচার নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর পক্ষেই সুবিধা এনে দেবে।












