বাংলা হান্ট ডেস্কঃ শিবরাত্রির দিন শিবমন্দিরে ভক্তদের ভিড়ের মধ্যেই শুরু হল রাজনৈতিক বিতর্ক। পূর্ব মেদিনীপুরের একটি শিবমন্দিরের নিরাপত্তা নিয়ে থানার চিঠি ঘিরে সরব হলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সমাজমাধ্যমে সেই চিঠির ছবি পোস্ট করে তিনি সরাসরি আক্রমণ করলেন রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।
শিবরাত্রির দিনই বিতর্কের সূত্রপাত
১৫ ফেব্রুয়ারি, রবিবার ছিল শিবরাত্রি। স্বাভাবিকভাবেই সেদিন রাজ্যের বিভিন্ন শিবমন্দিরে ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মহাদেবের মাথায় জল ঢালতে বহু মানুষ মন্দিরে যান। সেই বিশেষ দিনের মধ্যেই সামনে আসে একটি চিঠি, যা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সমাজমাধ্যমে একটি চিঠির ছবি শেয়ার করেন। চিঠিটি পাঠিয়েছে West Bengal Police-এর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দকুমার পুলিশ স্টেশন। যদিও ওই চিঠির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
চিঠিতে কী লেখা ছিল?
চিঠিটি পাঠানো হয়েছে নাড়াদাড়ী শিব মন্দির কমিটির উদ্দেশ্যে। সেখানে লেখা হয়েছে—
“মহাশয়/মহাশয়া,
এতদ্বারা আপনাদের মন্দির কমিটিকে জানান যাইতেছে যে, আপনাদের বিগ্রহ সুরক্ষিত রাখার জন্য এবং মন্দিরের দেখভালের জন্য একজন প্রহরী রাখার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে এবং মন্দির এবং সংলগ্ন এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।”
এই বয়ান নিয়েই আপত্তি তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
চিঠির ছবি পোস্ট করে কী লেখেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)
চিঠির ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “জামাতি পুলিশের কারবার দেখুন! শিব মন্দির কমিটিগুলোকে লিখছে যে বিগ্রহ ও মন্দিরের সুরক্ষার জন্য প্রহরী রাখো, সিসিটিভি বসাও।” এরপরই তিনি প্রশ্ন তোলেন নিরাপত্তার দায়িত্ব কার? পুলিশের না কমিটির? পুলিশের কাজ কি শুধু উপদেশ দেওয়া? কেন শুধুমাত্র হিন্দুদের পুজো-পার্বণেই এমন নিরাপত্তার অভাব দেখা যায়? অন্যান্য ধর্মীয় স্থানে কি এ ধরনের নোটিশ পাঠানো হয়? মমতা সরকারের অধীনে হিন্দুদের উৎসবই কি টার্গেট এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, মন্দিরের নিরাপত্তা দেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। সেই কাজ কমিটির উপর চাপানো উচিত নয়। এই প্রসঙ্গেই তিনি রাজ্য পুলিশকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।

আরও পড়ুনঃ লাইনে দাঁড়ানোর ঝক্কি শেষ! ঘরে বসেই ‘যুবসাথী’র আবেদন, কী কী নথি লাগবে জানুন…
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে মন্দিরের নিরাপত্তা নিয়ে আগেও একাধিকবার সরব হয়েছে বিজেপি। দলের অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু মন্দিরে হামলা, বিগ্রহ ভাঙচুর ও গয়না চুরির ঘটনা ঘটছে। আর সেই সব ঘটনায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না বলেই দাবি তাদের। তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। শাসকদলের দাবি, রাজ্যে নিরাপত্তা জোরদার রয়েছে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় আছে। কোনও বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে তাদের বক্তব্য। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি নন্দকুমার থানা। ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে কতটা প্রভাব পড়বে, সেটাই এখন দেখার।












